বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নে ১৩টি অবৈধ ইটভাটায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করেছে প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর। সোমবার (৫ অক্টোবর) পরিচালিত দুইটি পৃথক মোবাইল কোর্ট অভিযানে মোট ১৩টি মামলায় ইটভাটা মালিকদের সর্বমোট ২৯ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে বান্দরবান জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারোয়ার হোসেনের পরিচালিত অভিযানে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫-এর ৬(খ) ধারা লঙ্ঘনের দায়ে ১৫(১)(৫) ধারায় ১২টি মামলা করা হয়। এসব মামলায় ১২ জনকে মোট ২৪ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. মঈন উদ্দিনের পরিচালিত পৃথক মোবাইল কোর্ট অভিযানে অবৈধভাবে মাটি কাটার দায়ে একটি মামলায় একজনকে ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।ওই মামলায় বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫-এর ৬(খ) ধারা লঙ্ঘনের দায়ে ১৫(১)(৫) ধারা এবং ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩-এর ১৫ ধারায় দণ্ড দেওয়া হয়।

অভিযানে জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারোয়ার হোসেন, লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মঈন উদ্দিন, পরিবেশ অধিদপ্তরের বান্দরবান পার্বত্য জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক মোহাম্মদ নুর উদ্দিন এবং সহকারী পরিচালক নুরুল হাসান সজিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ফাইতং ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ইটভাটায় মাটি সরবরাহসহ বিভিন্ন কাজে অবৈধভাবে পাহাড় ও কৃষিজমি থেকে মাটি কাটা হচ্ছে। এক্সকাভেটর দিয়ে পাহাড় ও জমি কেটে মাটি বিভিন্ন যানবাহনে করে পরিবহন করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

অপরিকল্পিতভাবে পাহাড় ও মাটি কাটার ফলে পাহাড়ের স্বাভাবিক গঠন নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট এবং বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

এদিকে অভিযান শেষে লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. মঈন উদ্দীন বলেন, “এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। ভবিষ্যতে আইন অমান্য করে পরিচালিত ইটভাটা গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।” এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করে দেন তিনি।

প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে মাটি কাটা বন্ধে নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান পরিচালনা করা হবে। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পৃথক দুই মোবাইল কোর্ট অভিযানে ১৩টি মামলা, ১৩ জন আসামি এবং মোট ২৯ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পরিবেশ রক্ষায় পাহাড় কাটা ও আইনবহির্ভূত ইটভাটার বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।