পাহাড়ি পথে ঘোরার আনন্দের সঙ্গে এবার যুক্ত হয়েছে বাড়তি খরচের চাপ। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে বান্দরবানের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে ভ্রমণে স্থানভেদে আগের তুলনায় ৫শত থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে। এতে পর্যটকদের ভ্রমণ বাজেটেও পড়ছে বাড়তি চাপ।

বান্দরবান জিপ-মাইক্রোবাস মালিক সমিতির কাউন্টারের দায়িত্বে থাকা মো. ফখরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বান্দরবানের পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ নীলগিরি, চিম্বুক, দেবতাকুম, থানচি, বগালেক, কেওক্রাডংসহ বিভিন্ন পাহাড়ি পর্যটনকেন্দ্র। এসব স্থানে যেতে শহর থেকে বেশ দূরত্ব অতিক্রম করতে হয়। পাহাড়ি আঁকাবাঁকা সড়ক দিয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হওয়ায় জ্বালানি খরচও তুলনামূলক বেশি। ফলে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পরিবহন ভাড়াও সমন্বয় করা হয়েছে।

তিনি জানান, নীলগিরির যাতায়াত ভাড়া আগে ছিল ৫ হাজার ৩শ, এখন ৫ হাজার ৮শ। রুমা বাজারের ভাড়া আগে ৫ হাজার ৩শ, এখন ৫ হাজার ৮শ। দেবতাকুমের ভাড়া আগে ছিল ৪৫০০, এখন ৫ হাজার। চিম্বুকের ভাড়া ৩ হাজার ৫শ থেকে বেড়ে ৪ হাজার, বগালেকের ভাড়া ৯ হাজার থেকে ১০ হাজার, তমাতুঙ্গীর ভাড়া ৮০০০ থেকে ৯০০০ এবং ডিম পাহাড়ের ভাড়া ১০,০০০ থেকে বেড়ে ১১,০০০ টাকা হয়েছে।

এছাড়া বিভিন্ন প্যাকেজেও ভাড়া বেড়েছে। নীলাচল, মেঘলা, রুপালী ঝর্ণা ও শৈলপ্রপাত একসঙ্গে ঘোরার প্যাকেজ আগে ছিল ৩ হাজার ৫শ, এখন ৪ হাজার টাকা। নীলগিরি, ডাবল হান্ড্রেড ভিউ, টাইটানিক ভিউ, চিম্বুক ও শৈলপ্রপাত প্যাকেজ আগে ছিল ৪ হাজার ৩শ, এখন ৪ হাজার ৮শ টাকা। আর নীলগিরি, ডাবল হান্ড্রেড ভিউ, টাইটানিক ভিউ, চিম্বুক, শৈলপ্রপাত, মেঘলা ও নীলাচল প্যাকেজ আগে ছিল ৬ হাজার, এখন ৭ হাজার টাকা ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে।

ঢাকাব থেকে ভ্রমণে আসা পর্যটক মো. রাশেদুজ্জামান সোহান বলেন, ২২ জন বন্ধু মিলে তারা বান্দরবান ভ্রমণে এসেছেন। উদ্দেশ্য রুমার বগালেক ও থানচির নাফাকুম ভ্রমণ করা। এসব পর্যটনকেন্দ্র ভ্রমণে এখন ৫-৬ হাজার টাকা অতিরিক্ত পরিবহন ব্যয় বহন করতে হচ্ছে। যা তাদের মোট ভ্রমণ খরচের বড় একটি অংশ।

পর্যটকদের ভাষ্য, শুধু বান্দরবানে আসা-যাওয়ার খরচ নয়, জেলার বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে যাতায়াতেও বেড়েছে ব্যয়। বিশেষ করে দলবেঁধে পর্যটনকেন্দ্র ঘুরতে গেলে চাঁদের গাড়ি, মাইক্রোবাস কিংবা অন্যান্য যানবাহনের ভাড়া আগের তুলনায় বেশি পড়ছে। এতে পুরো ভ্রমণের বাজেটেই প্রভাব পড়ছে।নারায়ণগঞ্জ থেকে ভ্রমণে আসা নাছির উদ্দীন বলেন, এর আগেও পরিবার-পরিজন নিয়ে বান্দরবান ভ্রমণে এসেছিলেন। এবার এসে আগে যে বাজেট নিয়ে বান্দরবানে আসা যেত, এখন সেই বাজেটে সবকিছু করা কঠিন। গাড়ি ভাড়া ও বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াতে অতিরিক্ত টাকা খরচ হচ্ছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা বেশি লাগছে।

হবিগঞ্জ থেকে পরিবার নিয়ে ভ্রমণে আসা মো. আলী বলেন, ভ্রমণে গাড়ি ভাড়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। তেলের দাম বাড়ার কারণে পরিবহন খরচ বেড়েছে। এর সঙ্গে খাবারের খরচ যোগ হওয়ায় পুরো ভ্রমণের বাজেট বেড়ে যাচ্ছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে পরিবহন ব্যয় বাড়লেও ভাড়া যেন ইচ্ছেমতো বাড়ানো না হয়। পর্যটন মৌসুমে পরিবহন ভাড়া নির্ধারণ ও তা কার্যকর হচ্ছে কি না, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি থাকা প্রয়োজন।চাঁদের গাড়ির চালক দিদারুল আলম বলেন, তেলের দাম বাড়লে তাদের খরচ সরাসরি বেড়ে যায়। পাহাড়ি রাস্তায় গাড়ি চালালে সমতলের তুলনায় জ্বালানি খরচ বেশি হয়। পর্যটকদের কাছ থেকে যে ভাড়া নেওয়া হচ্ছে, তার বড় অংশই গাড়ির জ্বালানি ও পরিচালনা ব্যয়ে চলে যায়।

জিপ-মাইক্রোবাস মালিক সমিতির সভাপতি নাছিরুল আলম বলেন, ২০২২ সালের দিকে ভাড়া বৃদ্ধির পর মাঝে দুইবার তেলের দাম বৃদ্ধি পেলেও বান্দরবানে ভাড়া বাড়ানো হয়নি। এবার লিটারে ২০ টাকা বৃদ্ধির কারণে দূরত্ব অনুযায়ী ৫ শত থেকে ১ হাজার টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। যা পর্যটকদের সহনশীল পর্যায়ে রয়েছে বলে জানান তিনি।