নয়ন মনি তঞ্চঙ্গ্যা,আলীকদমঃ বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার ২নং চৈক্ষ্যং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীনের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, প্রতারণা এবং স্থানীয় এক সাংবাদিককে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।

১ লাখ ৭৮ হাজার টাকারও বেশি অর্থ অন্যায় ভাবে আত্মসাতের অভিযোগ এনে ভুক্তভোগী সাংবাদিক মো. আমির হোসাইন ছাদেকী মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) আলীকদম উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এবং বান্দরবান জেলা স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক বরাবর পৃথক লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

লিখিত অভিযোগসূত্র জানা যায়, ২০২০ সালের ১৭ নভেম্বর ইউপির তৎকালীন চেয়ারম্যান ফেরদৌস রহমানের সাথে মৌখিক সমঝোতার ভিত্তিতে পরিষদ ভবনের একটি কক্ষ দোকান হিসেবে ব্যবহারের অনুমতি পান অভিযোগকারী। চুক্তি অনুযায়ী তিনি নিজ অর্থায়নে ৪৯,২৫০ টাকা সালামি ও প্রাক-প্রস্তুতি ব্যয় বহন করে মাসিক ৮০০ টাকা ভাড়ায় সেখানে ব্যবসা পরিচালনা শুরু করেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, বর্তমান চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন দায়িত্ব নেওয়ার পর তার ভাই মনির ছাদেকীকে ইউপির উদ্যোক্তা হিসেবে নিয়োগ দেন। পরবর্তীতে উদ্যোক্তার অর্জিত আয় থেকে বিভিন্ন প্রশাসনিক খরচের অজুহাতে এবং পাওনা ২৫ শতাংশ টাকা বকেয়া রেখে মোট ১ লাখ ৩৭,৭০০ টাকা কেটে রাখা হয়, যা আজ পর্যন্ত ফেরত দেওয়া হয়নি।

অভিযোগকারী আরও জানান, বছর দেড়েক আগে ভোটার তালিকা হালনাগাদের সময় ১,০০০ টাকা এবং পরিষদ থেকে ডিপ টিউবওয়েল, মোটর ও পানির ট্যাংকি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার কাছ থেকে ২১,০০০ টাকা নেন চেয়ারম্যান। একই প্রলোভনে পাশের দোকানদারের কাছ থেকেও ২০,০০০ টাকা নেওয়া হয়। কিন্তু আজ পর্যন্ত নলকূপ স্থাপন কিংবা অর্থ ফেরত দেওয়া হয়নি। স্থানীয় অন্তত ১০টি পরিবারের কাছ থেকেও একইভাবে ২০ হাজার টাকা করে আদায় করা হয়েছে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়।

অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২৪ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালকের আকস্মিক পরিদর্শনকালে পরিষদের বিভিন্ন অনিয়ম ও প্রশাসনিক দুর্নীতির তথ্য সংবাদমাধ্যমে উঠে এলে চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন ক্ষিপ্ত হন। এরপর থেকে ভুক্তভোগী সাংবাদিককে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া শুরু হলে তিনি ২৫ সেপ্টেম্বর নিজের নিরাপত্তা চেয়ে আলীকদম থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি/অভিযোগ দায়ের করেন।

এরই জেরে গত ২৭ সেপ্টেম্বর চেয়ারম্যানের স্বাক্ষরিত এক নোটিশে (স্মারক নং:৪৬.০.০৩০৪.০৮০.১১.০০১.২৬-৯৯) বকেয়া ভাড়ার দোহাই দিয়ে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে দোকান ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে নোটিশে পূর্বে গৃহীত ৪৯,২৫০ টাকা সালামির কোনো হিসাব বা উল্লেখ রাখা হয়নি।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক অনতিবিলম্বে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, আত্মসাৎ করা সালামি ও আনুষঙ্গিক অর্থ উদ্ধার এবং ভয়ভীতিমুক্ত পরিবেশে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ নিশ্চিত করার আবেদন জানিয়েছেন।