মেক্সিকোসহ বিভিন্ন দেশে মানবপাচার, অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগে নাজমুল হাসানের পাসপোর্টের কার্যকারিতা রহিত করার উদ্যোগ নিয়েছে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর। তবে এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
জানা গেছে, নাজমুল হাসানের বিরুদ্ধে একাধিক দেশে মানবপাচার, অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে।বিদেশে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, লিবিয়া, অস্ট্রেলিয়া, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া ও ব্রাজিলে জনবল পাঠানোর কথা বলে অর্থ নেওয়া হতো।
যাদেরকে তাদের অনেকেই বিদেশে আটকা পড়েন, কেউ আর্থিক ক্ষতির মুখে এবং কেউ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগকারীদের একটি অংশ আরও দাবি করেছেন, নাজমুল হাসান নিজেকে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের এজেন্ট হিসেবে পরিচয় দিতেন, পল্টন ট্রপিকানা সেন্টারে তার অফিস আছে। সে যে কোন দেশের ভিসা বানাতে পারেন, তার কাছে আছে ব্যাংক ও ইমিগ্রেমনের অবৈধ্য সিল। তিনি বিভিন্ন দেশের মুঠোফোন নম্বর ব্যবহার করে যোগাযোগ করতেন। এসব দাবির সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট সিমের নিবন্ধন, কল রেকর্ড, আর্থিক লেনদেন এবং মেসেজিং অ্যাপের তথ্য তদন্ত করা প্রয়োজন বলে মনে করেন ভুক্তভোগীরা।
বিদেশে পাঠানোর পর তাদের বা তাদের পরিচিতদের আটকে রেখে অর্থ আদায় করা হয়েছে। এমনকি তাদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। এসব ঘটনার ভিডিও বা অডিও রেকর্ড থাকার দাবি করেছেন তারা।প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ভিয়েতনাম, মেক্সিকো ও কম্বোডিয়ায় নাজমুল হাসানের বিরুদ্ধে মামলা থাকার দাবি করা হয়েছে। এসব মামলায় মানবপাচার ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন।
লিবিয়াতেও তার বিরুদ্ধে মামলা থাকার দাবি করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট বিদেশি আদালতের নথি, মামলার নম্বর ও বর্তমান আইনি অবস্থান স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।ঢাকার একটি মামলার তথ্যেও নাজমুল হাসানের নাম থাকার দাবি করা হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যে মামলা নম্বর ৩৩/১৫, কোড ১৭এমজিজি, মামলা ধরন সিআর, উপধরন ডব্লিউএ এবং তারিখ ১৩ অক্টোবর ২০২৫ উল্লেখ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট আদালত হিসেবে যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ আদালত-৩০, ঢাকা মহানগরের নাম দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, তার বিরুদ্ধে পাঁচটির বেশি মামলা রয়েছে। আদালত ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার নথি পর্যালোচনা করেই এসব মামলার সংখ্যা, অভিযোগ এবং বর্তমান অবস্থা নিশ্চিত করা সম্ভব।
পাসপোর্টসংক্রান্ত নথিতে নাজমুল হাসানের জন্মতারিখ ২০ জুন ১৯৭৩ এবং জন্মস্থান মাগুরা উল্লেখ রয়েছে। নথি অনুযায়ী, পাসপোর্টটি ১৬ জানুয়ারি ২০২২ ইস্যু করা হয় এবং এর মেয়াদ ১৫ জানুয়ারি ২০৩২ পর্যন্ত। ইস্যুকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে ডিআইপি, ঢাকা উল্লেখ রয়েছে।
সূত্রের দাবি, সংশ্লিষ্ট অভিযোগ ও মামলার পরিপ্রেক্ষিতে সরকার পাসপোর্টটি বাতিল বা রহিত করার প্রক্রিয়া নিচ্ছে। তবে পাসপোর্ট বাতিলের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক আদেশ বা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অভিযোগকারীরা নাজমুল হাসানের মাধ্যমে বিদেশে পাঠানো ব্যক্তিদের তালিকা, অর্থ লেনদেনের তথ্য, ব্যাংক হিসাব, ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বর, বিদেশি যোগাযোগ এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মামলার নথি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।তাদের ভাষ্য, এসব তথ্য যাচাই করা হলে বিদেশে লোক পাঠানোর প্রক্রিয়া, অর্থের উৎস ও গন্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।