শাকিব হোসেন, রাঙ্গামাটি: পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক জাতীয়, নির্বাহী ও পরামর্শক কমিটি নিয়ে বিভিন্ন বক্তব্য ও তথ্যের পরিপ্রেক্ষিতে বিভ্রান্তি দূর করার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন নাগরিক সমাজের ১০২ জন প্রতিনিধি। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে তারা এ আহ্বান জানান।সরকার ১০ সেপ্টেম্বর পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক জাতীয় কমিটি, নির্বাহী কমিটি ও পরামর্শক কমিটি গঠন করে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নোটিশেও একই তারিখে তিন কমিটি গঠনের প্রজ্ঞাপন প্রকাশের তথ্য রয়েছে।

যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, পার্বত্য চট্টগ্রামের দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা নিরসন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সব জনগোষ্ঠীর টেকসই উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যেই সরকার এসব কমিটি গঠন করেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি প্রতিরোধ, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা, স্থানীয় উন্নয়ন, অবকাঠামো এবং প্রচলিত আইন ও বিধি পর্যালোচনার মতো বিষয়গুলোকে কমিটিগুলোর কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।বিবৃতিদাতারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিনিধিত্ব সংকুচিত করার কোনো উদ্দেশ্য সরকারের নেই। বরং পাহাড়ে বসবাসকারী বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা, নাগরিক সুবিধা, সামাজিক সম্প্রীতি ও সুশাসন নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক সমন্বয় জোরদার করা প্রয়োজন।

তারা আরও বলেন, ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির সুফল যাতে পার্বত্য অঞ্চলের সাধারণ মানুষ সমানভাবে পান, সেজন্য প্রশাসনিক দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। নিরাপত্তার বিষয়টিকেও শুধু আইনশৃঙ্খলার দৃষ্টিকোণ থেকে না দেখে পাহাড়ে বসবাসকারী প্রতিটি মানুষের নাগরিক নিরাপত্তার সঙ্গে বিবেচনা করার আহ্বান জানান তারা।যৌথ বিবৃতিতে পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় সব জনগোষ্ঠীর মতামত ও অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক প্রতিনিধি, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, নাগরিক সমাজ, সিনিয়র নাগরিকসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোর বাস্তবসম্মত সমাধান খোঁজার আহ্বান জানানো হয়।বিবৃতিতে আরও বলা হয়, উচ্চপর্যায়ের কমিটিগুলোর কার্যক্রমকে ঘিরে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে নতুন করে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি না করে স্বচ্ছতা, সামাজিক সম্প্রীতি ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে প্রক্রিয়াটি এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। কমিটিগুলোর সুপারিশ প্রণয়নের সময় স্থানীয় জনগণের মতামতকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়েছে।

যৌথ বিবৃতিতে দারুসসালাম বিশ্ববিদ্যালয়, সোমালিয়ার উপাচার্য ড. আসিফ মিজান, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ, সাবেক ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ড. গোলাম রহমান ভূঁইয়া, অধ্যাপক ড. মো. আবু তৈয়ব চৌধুরী, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইউনুছ, লে. কর্নেল (অব.) খন্দকার ফরিদুল আকবর, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাসিনুর রহমান, অ্যাডভোকেট পারভেজ তালুকদার, অধ্যাপক হারুন উর রশিদ, এস এম জহিরুল ইসলাম, ক্যাপ্টেন রেদওয়ান সিকদার, ব্যারিস্টার ইলিয়াছুর রহমান, অধ্যক্ষ নুরুল আলম, অধ্যাপক মাহাবুবুর রহমান, ড. মোহাম্মদ মুহিব উল্লাহ, মেজর মাসুদুর রহমান, সাংবাদিক ও কলামিস্ট কামাল পারভেজ, নাজিমউদ্দিন চৌধুরী এ্যালেন, হাবীব আজম, হাবিবুর রহমান, দিদারুল আলম, মোজাম্মেল হক লিটন, মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন, অ্যাডভোকেট কামাল উদ্দিন সুজন, ডা. মোহাম্মদ ইউসুফ আলী ও অ্যাডভোকেট রাইসুল কবিরসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ১০২ জন স্বাক্ষর করেন।

বিবৃতির শেষাংশে পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত সব জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা, অধিকার, উন্নয়ন ও সামাজিক সম্প্রীতি নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে পৌঁছানোর আহ্বান জানানো হয়।