দীর্ঘদিন যাবৎ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর বান্দরবান বিভাগের বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে দুর্নীতি, অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতসহ বিভিন্ন অভিযোগ পাহাড়কন্ঠ ডটকমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়।
এইসব অভিযোগের ভিত্তিতে আজ রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে প্রতিষ্ঠানটিতে অভিযান পরিচালনা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর একটি বিশেষ এনফোর্সমেন্ট টিম।
এসময় দুর্নীতি দমন কমিশনের বিশেষ এনফোর্সমেন্ট টিমজনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী অনুপম দে-এর কাছে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাস্তবায়িত বিভিন্ন প্রকল্পের তথ্য যাচাই বাছাই করে। অভিযানকালে দুদকের কর্মকর্তারা কার্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথি, প্রকল্পের ফাইল, দরপত্র সংক্রান্ত কাগজপত্র এবং মাস্টাররোল যাচাই-বাছাই করেন বলে জানা গেছে।
পরে দুর্নীতি দমন কমিশনের বিশেষ এনফোর্সমেন্ট দলটি বান্দরবান সদরের কুহালং ইউনিয়নের বাকীছড়া এলাকার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বাস্তবায়িত কয়েকটি প্রকল্প পরিদর্শন করেন এবং যাছাই বাছাই করেন।
অভিযান চলাকালীন সময়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর সহকারী পরিচালক আবদুল আল নোমান সাংবাদিকদের জানান, বান্দরবানের বিভিন্ন এলাকায় বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহ, টিউবওয়েল স্থাপন, রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং এবং স্যানিটেশন প্রকল্পের কাজ সঠিকভাবে না হওয়া ও বেশ কিছু প্রকল্প নিম্নমানের হওয়াসহ কাজ না করে অর্থ আত্মসাৎসহ বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুদুকের এনফোর্সমেন্ট টিম এই অভিযান চালায় এবং পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন উপজেলাতে দুর্নীতি দমন কমিশনের বিশেষ এনফোর্সমেন্ট টিমটি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বাস্তবায়িত প্রকল্প পরিদর্শন ও যাছাই বাছাই করবে।
এসময় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর উপ সহকারী পরিচালক রাকিব উদ্দিন মিজান, সহকারী পরিচালক নচিকতা চক্রবর্তী, বান্দরবান জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী অনুপম দেসহ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিভিন্ন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পরবর্তীতে দুদকের অভিযানের বিষয়ে জানতে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী অনুপম দে এর ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি উল্টো কেটে দিয়েছেন। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।এদিকে দুদকের এই অভিযান ঘিরে বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।