বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সোনাইছড়িতে আয়েশা বেগম (৩০) নামে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী ছৈয়দ আহমদের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ওসি মো. মোজাম্মেল হকের নেতৃত্বে পুলিশের দ্রুত তৎপরতায় অল্প সময়ের মধ্যেই অভিযুক্ত স্বামীকে আটক করা হয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টা ৫ মিনিটের দিকে উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জামিরতলী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত আয়েশা বেগম স ওই এলাকার ছৈয়দ আহমদের স্ত্রী।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আয়েশা বেগমের সঙ্গে স্থানীয় জাফর আলমের কথিত পরকীয়া সম্পর্ক রয়েছে—এমন সন্দেহ ছিল তার স্বামী ছৈয়দ আহমদের। এ বিষয়কে কেন্দ্র করে রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে আয়েশা, জাফর আলম ও ছৈয়দ আহমদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
পুলিশের প্রাথমিক তথ্যমতে, ওই ঘটনার পর ছৈয়দ আহমদ অজ্ঞাত কয়েকজনের সহায়তায় আয়েশাকে মারধর করেন। একপর্যায়ে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মারা যান বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
পরে ছৈয়দ আহমদ জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আয়েশা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে। একই সঙ্গে অভিযান চালিয়ে তার স্বামী ছৈয়দ আহমদকে আটক করা হয়।
পুলিশের দ্রুত তৎপরতা, পেশাদারিত্ব ও সাহসিকতার কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই অভিযুক্ত স্বামীকে আটক করা সম্ভব হয়েছে। বিশেষ করে থানার ওসি মো. মোজাম্মেল হকের নেতৃত্ব ও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়।এদিকে, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোজাম্মেল হক বলেন, “প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিহতের স্বামীকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়েছে। পরকীয়া সম্পর্কের বিষয়কে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।”
তিনি আরও বলেন, “ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
পুলিশ জানায়, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের বাবার কাছ থেকে এজাহার গ্রহণের পর এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, তদন্ত ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং হত্যাকাণ্ডে অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কিনা, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।এ ঘটনায় নাইক্ষ্যংছড়ি এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।