বান্দরবানের দূরবর্তী উপজেলা রুমায় সরকারি কর্মকর্তা,কর্মচারীদের আবাসন সংকট দিন দিন প্রকট হচ্ছে।পর্যাপ্ত সরকারি কোয়ার্টার না থাকা এবং উপজেলা সদরে পরিবার নিয়ে বসবাসের উপযোগী ভাড়ার বাসা স্বল্পতার কারণে অনেক কর্মকর্তা,কর্মচারী পরিবার রেখে কর্মস্থলে একা থাকছেন। কেউ কেউ আবার রুমার বাইরে থেকে নিয়মিত যাতায়াত করছেন।
রুমায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে কর্মরত একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে,বদলি হয়ে আসার পর তাঁদের অন্যতম বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় থাকার ব্যবস্থা করা। বিশেষ করে স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবার নিয়ে বসবাস করতে ইচ্ছুকদের জন্য নিরাপদ ও উপযোগী বাসা পাওয়া কঠিন। ফলে অনেকে পরিবারকে জেলা সদর বা নিজ এলাকায় রেখে কর্মস্থলে একা থাকছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক সরকারি কর্মকর্তা বলেন, রুমায় বদলি হয়ে আসার পর দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি থাকার ব্যবস্থা করাটাও বড় চ্যালেঞ্জ। পরিবার নিয়ে থাকতে চাইলে উপযোগী বাসা পাওয়া কঠিন।
আরেক কর্মকর্তা বলেন,পরিবার বাইরে থাকলে একদিকে বাড়তি যাতায়াত ব্যয়,অন্যদিকে পারিবারিক বিচ্ছিন্নতা তৈরি হয়। আবার পরিবার সঙ্গে রাখলেও বাসা ও অন্যান্য নাগরিক সুবিধার সংকট রয়েছে।
আবাসন সংকটের পাশাপাশি রুমার পাহাড়ি ও দুর্গম সড়ক যোগাযোগও সরকারি কর্মকর্তা,কর্মচারীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।কর্মস্থলের বাইরে অবস্থানকারী কর্মকর্তা,কর্মচারীদের প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে অফিসে পৌঁছানো অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
রুমা উপজেলা প্রশাসন,থানা,হাসপাতাল,কৃষি,সমাজসেবা,পরিসংখ্যান,হিসাবরক্ষণ, নির্বাচনসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কার্যক্রম রয়েছে। এসব দপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়মিত উপস্থিতি ও মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনা স্থানীয় জনগণকে সরকারি সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
তবে আবাসন ও যোগাযোগ সংকটের কারণে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অনুপস্থিতি বা দেরিতে কর্মস্থলে উপস্থিতির বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সরকারি পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি। ফলে এ সংকটের কারণে সরকারি সেবায় বাস্তবে কী ধরনের প্রভাব পড়ছে,তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
সচেতন মহলের প্রশ্ন,রুমায় সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য মোট কতটি আবাসিক কোয়ার্টার রয়েছে,এর মধ্যে কতটি ব্যবহারযোগ্য,কতজন কর্মকর্তা,কর্মচারী সরকারি আবাসন সুবিধা পাচ্ছেন এবং গত কয়েক বছরে আবাসিক ভবন নির্মাণ ও সংস্কারে কত টাকা ব্যয় হয়েছে,এসব তথ্য প্রকাশ করা প্রয়োজন।
এবিষয়ে রুমা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, লিজা আক্তার বিথী বলেন, রুমার আবাসন সংকটের বিষয়ে আমরা অবগত কিন্তু এই সমস্যা নিরসনে নতুন কোয়ার্টার নির্মাণ, পুরোনো আবাসিক ভবন সংস্কার করার জন্য উদ্যোগ নেওয়া জরুরি, সরকার যদি বরাদ্দ দেয় আমরা এই সংকট নিরেশনে যথাযথ ব্যবস্থা নেবো। সরকারি বরাদ্দ পেলে এই উপজেলায় চাকুরীরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মস্থলে থাকা যেমন সহজ হবে,তেমনি দুর্গম এলাকার জনগণও সরকারি সেবা আরও কার্যকরভাবে পাওয়ার সুযোগ পাবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে,দুর্গম উপজেলায় সরকারি কর্মকর্তাদের পদায়ন করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। তাঁদের কর্মস্থলের কাছাকাছি নিরাপদ আবাসন,যোগাযোগ,বিদ্যুৎ ও পানিসহ ন্যূনতম নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি।