পার্বত্য জেলা বান্দরবানে স্থানীয় পর্যায়ে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ঝুঁকি, চ্যালেঞ্জ এবং তা মোকাবিলায় করণীয় নিয়ে আঞ্চলিক আলাপন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ডিজিটাল নিরাপত্তা, তথ্যের অপব্যবহার, ভুয়া তথ্য ও গুজব, অনলাইন হয়রানি, ডিজিটাল বৈষম্য , অনলাইন বেটিং বা জুয়া এবং প্রযুক্তি ব্যবহারে জনসচেতনতার ঘাটতিসহ বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পায়।
আঞ্চলিক আলাপনে উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ ছুরত জেলা আইসিটি অধিদপ্তরের আইসিটি অফিসার মোহাম্মদ ছুরত আলম। জেলা আইসিটি অধিদপ্তর সহকারী নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ার এবং বান্দরবান কালেক্টর স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রভাষক নরে দাস। এছাড়াও বান্দরবানের বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা এতে উপস্থিত ছিলেন ।
আলাপনে জেলা আইসিটি অফিসার মোহাম্মদ ছুরত আলম আকাশ বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তির বিস্তারের ফলে শিক্ষা, যোগাযোগ, সরকারি সেবা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়লেও এর সুফল সবার কাছে সমানভাবে পৌঁছাচ্ছে না। বিশেষ করে বান্দরবানের দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতে ইন্টারনেট সংযোগের সীমাবদ্ধতা, ডিজিটাল দক্ষতার ঘাটতি এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়ে পর্যাপ্ত সচেতনতার অভাব একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সহকারী নেটওয়ার্ক ইন্জিনিয়ার নন্দন সরকার বলেন, নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল পরিবেশ নিশ্চিত করতে শুধু প্রযুক্তিগত অবকাঠামো উন্নয়নই যথেষ্ট নয়; পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে তরুণ ও শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল সাক্ষরতা, সাইবার নিরাপত্তা, তথ্য যাচাই এবং দায়িত্বশীল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে দক্ষ করে তুলতে হবে। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া কোনো তথ্য যাচাই না করে শেয়ার না করা এবং ব্যক্তিগত তথ্য ও গোপনীয়তা সুরক্ষার বিষয়েও জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
আলোচনায় স্থানীয় বাস্তবতা ও জনগোষ্ঠীর প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে ডিজিটাল নীতি ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। বান্দরবান কালেক্টর ইস্কুল এন্ড কলেজের প্রভাষক নরেন দাশ বলেন সরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, যুবসমাজ, নাগরিক সংগঠন ও প্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে স্থানীয় ডিজিটাল ঝুঁকি কমানো এবং প্রযুক্তির সুফল নিশ্চিত করা সম্ভব।
ইয়ুথ ফর পলিসি, ইনস্টিটিউট ফর ইনফর্মড ডেভেলপমেন্ট (আইআইডি), ডিজিটাল ডেমোক্রেসি ইনিশিয়েটিভ (ডিডিআই), সাউথ এশিয়া এবং অ্যাকাউন্টেবিলিটি ল্যাব-এর সহযোগিতায় এ আঞ্চলিক আলাপনের আয়োজন করা হয়।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, স্থানীয় পর্যায়ে ডিজিটাল বাস্তবতা ও ঝুঁকিগুলো চিহ্নিত করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত ও অভিজ্ঞতা তুলে এনে একটি নিরাপদ, দায়িত্বশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল পরিবেশ তৈরিতে এ ধরনের সংলাপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।