বান্দরবানের রুমা উপজেলার পাইন্দু ইউনিয়নের তংমক পাড়ায় এক কিশোরীকে চার যুবক পালাক্রমে ধর্ষণ এবং পরে ট্যাবলেট খাইয়ে গর্ভপাত করানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কিশোরীর পরিবার বিষয়টি জানতে পেরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দিয়েছে।
অভিযুক্তরা হলেন—ক্যহ্লাচিং মারমার ছেলে ক্যসিংনু মারমা, উহাইমং মারমার ছেলে ঞোচিংঅং, মংচের ছেলে সিংহ্লা মারমা এবং মৃত মংচহ্লা মারমার ছেলে উশৈনু মারমা। তাদের মধ্যে উশৈনু মারমা এক সন্তানের বাবা বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী কিশোরীর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে ক্যহ্লাচিং মারমার ছেলে ক্যসিংনু মারমা তাকে ধর্ষণ করেন। পরদিন উহাইমং মারমা ও সিংহ্লা মারমা এবং পরবর্তীতে উশৈনু মারমা তাকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করেছে কিশোরী।
কিশোরীর অভিযোগ, ঘটনার প্রায় চার মাস পর উহাইমং মারমা তাকে এক পাতা ট্যাবলেট দেন। ওই ট্যাবলেট সেবনের পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের কাছে প্রকাশ পায়। পরে তাকে রুমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বান্দরবানে পাঠানো হয়।
পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন বিষয়টি গোপন থাকার পর গত ৮ সেপ্টেম্বর তারা ঘটনাটি জানতে পারেন। হাসপাতালে চিকিৎসার পর কিশোরীর গর্ভধারণ ও পরবর্তী শারীরিক জটিলতার বিষয়টি পরিবারের কাছে প্রকাশ পায় বলে তারা দাবি করেছে। স্থানীয় পাড়াবাসীর কাছ থেকেও ঘটনার বিষয়ে জানতে পারেন বলে জানিয়েছে পরিবার।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য মংছো মারমার সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংযোগ স্থাপনে সমস্যার কারণে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পাইন্দু ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান উহ্লামং মারমা বলেন, কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগের বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তবে ভুক্তভোগীর পরিবার বা স্বজনদের পক্ষ থেকে এখনো তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
রুমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মানস বড়ুয়া বলেন, প্রায় দুই দিন আগে রুমা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ফোনে বিষয়টি জানতে পেরেছেন। তবে ভুক্তভোগী কিশোরী বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা করা হয়নি। লিখিত অভিযোগ বা মামলা পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।