পার্বত্য জেলা বান্দরবানে সুপেয় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়নে বাস্তবায়নাধীন প্রায় ৪৫ কোটি টাকার প্রকল্পে নানা অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের কাজ কাগজে-কলমে শতভাগ সম্পন্ন দেখিয়ে বরাদ্দের পুরো অর্থ উত্তোলন করা হলেও মাঠপর্যায়ে প্রকল্পের অধিকাংশ কাজের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এইসব বিষয় নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে একাধিকবার সংবাদ প্রকাশের পরেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি এখনও পর্যন্ত। দোর্দণ্ড প্রতাপে দুর্নীতি চলছে এই প্রকল্পে।
এইদিকে প্রকল্পের অনিয়ম দুর্নীতি ধামাচাপা দিতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে ভুয়া প্রচার চালাচ্ছে বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। চমকদার এইসব বিজ্ঞাপন ধরনের প্রতিবেদনে দেয়া আছে অসত্য সব তথ্য যার সরেজমিনে কোনো অস্তিত্ব নেই। এইসব প্রতিবেদনে ৫০ টি পাড়ার সুপেয় পানির দুর্ভোগ লাগব হওয়ার কথা উল্লেখ করা হলেও তথ্য দেয়া হয়েছে মাত্র ২টি পাড়া।
প্রকৌশলী না হয়েও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. নজরুল ইসলামকে প্রকল্পটির প্রকল্প পরিচালক (পিডি) হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি প্রশাসন ক্যাডারের ২৫তম ব্যাচের কর্মকর্তা বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
প্রকৌশলী না হয়েও একজন প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাকে কীভাবে পানি ও স্যানিটেশন অবকাঠামো নির্মাণসংক্রান্ত প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক করা হলো—এ নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে এখনো।
প্রকল্পে উপ-প্রকল্প পরিচালক (ডিপিডি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিতর্কিত নির্বাহী প্রকৌশলী অনুপম দে।
৪৫ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতি ঘটিয়েছেন এই দুই কর্মকর্তা। ইতিমধ্যে অনিয়মের সংবাদ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে জেলা জুড়ে এই অনিয়মের গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় তা ঢাকা দিতে অর্থের বিনিময়ে প্রচার চালানো হচ্ছে বলেও জানা গেছে।
প্রকৌশলী অনুপমের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ আছে, তথ্য অধিকার আইনে আবেদন গ্রহণ না করতে অধীনস্থ কর্মচারীদের মৌখিক নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এ কারণে ৪৫ কোটি ১৬ লাখ ২০ হাজার টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন পানি ও স্যানিটেশন প্রকল্পের কাজ, ব্যয় ও বিল-ভাউচারসংক্রান্ত তথ্য চেয়ে আবেদন করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা।
এইসব বিষয়ে জানতে এই দুই কর্মকর্তার সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাদের অফিসে পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তাদের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নানান অনিয়ম দুর্নীতির কারণে মন্ত্রণালয়েও আলোচনায় আছেন এই দুই কর্মকর্তা। তবুও অদৃশ্য শক্তির প্রভাবে এখনো বহাল অনুপম ও নজরুল।