বান্দরবানে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ডিপিএইচই) বাস্তবায়নাধীন এডিবি'র অর্থায়নে স্যানিটেশন (ল্যাট্রিন) নির্মাণ প্রকল্পে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পের কাজ নিয়ে স্থানীয় উপকারভোগীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পের কাজ শুরুর পর থেকেই নিম্নমানের ইট, বালুর পরিবর্তে মাটি, পুরাতন রড, নিম্নমানের সিমেন্ট ও কংক্রিট ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া নির্মাণকাজে সরকারি নির্ধারিত শিডিউল ও প্রাক্কলন যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না বলেও অভিযোগ তাদের।অভিযোগ রয়েছে, সেফটি ট্যাংকসহ বিভিন্ন স্থাপনার ঢালাইয়ের সময় পর্যাপ্ত সিমেন্ট ও মানসম্মত খোয়া ব্যবহার না করে দায়সারাভাবে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয় উপকারভোগীদের।
প্রকল্পের মাঠপর্যায়ের নির্মাণকাজ ‘লাকী এন্টারপ্রাইজ’ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ঠিকাদার হিসেবে কাজ করছেন মো. নাছির উদ্দিন। স্থানীয় প্রতিনিধি হিসেবে প্রকল্পের কাজ তদারকি করছেন মো. সাদ্দাম হোসেন।
পৌরসভার বনরূপা-সিদ্দিকনগর এলাকার উপকারভোগী গাড়িচালক মুসলিম উদ্দিন জানান, প্রকল্পের ইট, বালু, সিমেন্ট, কংক্রিটসহ সেফটি ট্যাংকের বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী পরিবহনে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব শ্রমিক ব্যবহারের পরিবর্তে উপকারভোগী পরিবারের সদস্যদের দিয়ে জোরপূর্বক বহন করানো হচ্ছে।
তার অভিযোগ, তড়িঘড়ি করে কাজ শেষ করার সময় নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের বিষয়টি স্থানীয়রা প্রতিবাদ করলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন কাজ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেন। ফলে অনেক উপকারভোগী বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পাচ্ছেন না।
তিনি দাবি করেন, প্রকল্পের কাজ যথাযথভাবে তদারকি করা হলে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের সুযোগ থাকত না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পর্যাপ্ত নজরদারির অভাবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইচ্ছেমতো কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে বলেও অভিযোগ তার।
এদিকে প্রকল্পের উপকারভোগী নির্বাচন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, দরিদ্র ও প্রকৃত সুবিধাবঞ্চিত পরিবারকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা থাকলেও কোথাও কোথাও সচ্ছল ব্যক্তি, প্রভাবশালী মহলের স্বজন এবং একই পরিবারের একাধিক সদস্যকে উপকারভোগীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে এসব তালিকা কীভাবে চূড়ান্ত করা হয়েছে, কারা তা পরিবর্তন করেছে এবং প্রকল্পের অর্থ ও কাজের অগ্রগতি কীভাবে তদারকি করা হচ্ছে—এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেছেন তারা।
অভিযোগের বিষয়ে প্রকল্পের ঠিকাদার মো. নাছির উদ্দিনের ম্যানেজার কাজল সেন বলেন, “প্রকল্পের কাজে কোনো ধরনের অনিয়মের সুযোগ নেই। আমাকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী অনুপম দে-এর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।