পার্বত্য মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো নিজ জেলা বান্দরবানে ফিরেছেন সাচিং প্রু জেরী। তাকে বরণ করে নিতে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে ছুটে আসেন হাজারো নেতাকর্মী ও সমর্থক। ফুলেল শুভেচ্ছা, স্লোগান ও ভালোবাসায় মন্ত্রীকে বরণ করে নেওয়াকে ঘিরে বান্দরবানে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বান্দরবানের প্রবেশমুখ থেকে শহরের বিভিন্ন স্থানে সাঁচি প্রু জেরীকে স্বাগত জানান বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকেও বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী এসে তার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় সড়কের দুই পাশে জড়ো হন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। মন্ত্রীকে একনজর দেখতে ও ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাতে মানুষের ঢল নামে।

পরে বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সাচিং প্রু জেরীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। যুবদল, ছাত্রদল, কৃষকদল, শ্রমিকদলসহ বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও পৃথকভাবে ফুলের তোড়া দিয়ে তাকে অভিনন্দন জানান।

নেতাকর্মীদের বিভিন্ন স্লোগান ও শুভেচ্ছায় এ সময় মুখর হয়ে ওঠে বান্দরবানের বিভিন্ন সড়ক। দীর্ঘদিন পর নিজ জেলায় পার্বত্য মন্ত্রী হিসেবে সাচিং প্রু জেরীর আগমনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।

পরে সাচিং প্রু জেরী বান্দরবান সার্কিট হাউসে পৌঁছালে তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এ সময় প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।সার্কিট হাউসের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বান্দরবান প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাবেশে যোগ দেন পার্বত্য মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী।

সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান তিনি। এসময় তিনি বলেন, “এ দায়িত্ব শুধু আমার জন্য সম্মানের নয়, পার্বত্য এলাকার মানুষের প্রতি এটি একটি বড় দায়িত্বও।”

তিনি আরো বলেন, পার্বত্য এলাকার মানুষের কল্যাণ, শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নে তিনি আন্তরিকভাবে কাজ করতে চান। বান্দরবানের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ও বিভিন্ন সমস্যা পর্যায়ক্রমে চিহ্নিত করে তা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, বান্দরবান শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জেলা নয়, এটি সম্ভাবনাময় একটি অঞ্চল। পর্যটন, যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, কর্মসংস্থান ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে বান্দরবানকে আরও এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সুফল যেন দুর্গম পাহাড়ি এলাকার সাধারণ মানুষও পায়, সে বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, বান্দরবানের উন্নয়ন কোনো একক ব্যক্তি বা দলের বিষয় নয়; এটি পুরো পার্বত্যবাসীর স্বার্থের বিষয়। দল-মত ও সম্প্রদায়ের ঊর্ধ্বে উঠে সবার সহযোগিতা নিয়ে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে পার্বত্য মন্ত্রী বলেন, মানুষের পাশে থেকে তাদের সমস্যার কথা শুনতে হবে এবং জনগণের আস্থা ধরে রাখতে হবে। একই সঙ্গে বান্দরবানের শান্তি, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

সমাবেশে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ছাড়াও বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। পুরো সমাবেশস্থল পরিণত হয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মিলনমেলায়।