‘সুস্থ চোখ, সুন্দর জীবন’—পাহাড়ে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসার মানবিক উদ্যোগ অব্যাহত
চোখের আলো ফিরে পাওয়ার আনন্দ নিয়ে আপন নীড়ে ফিরেছেন বান্দরবানের সুবিধাবঞ্চিত ১০০ জন রোগী। ‘সুস্থ চোখ, সুন্দর জীবন’ স্লোগানকে সামনে রেখে চলমান মানবিক চক্ষু চিকিৎসা কার্যক্রমের ৩য় দফায় এসব রোগীর সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ছানি অপারেশন ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) চট্টগ্রামের স্বনামধন্য চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম লায়ন্স দাতব্য চক্ষু হাসপাতাল-এ অপারেশন ও চিকিৎসাসেবা শেষে ১০০ রোগীকে নিরাপদে বান্দরবানে ফিরিয়ে আনা হয়। এর আগে গত ২৯ আগস্ট (শনিবার) তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে নেওয়া হয়েছিল।
পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য কে এস মং-এর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এবং কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের কারিগরি সহযোগিতায় এ মানবিক চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক উছোমং মার্মা জানান, ৩য় দফায় ১০০ জন রোগীকে গত ২৯ আগস্ট চট্টগ্রামে নেওয়া হয়। সেখানে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ছানি অপারেশন ও চিকিৎসাসেবা শেষে সোমবার তাদের বান্দরবানে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
তিনি বলেন, একই সঙ্গে ৪র্থ দফায় আরও ১০০ জন রোগীকে চিকিৎসার জন্য সোমবার চট্টগ্রামে পাঠানো হয়েছে। রোগীদের চট্টগ্রামে নেওয়া, চিকিৎসা, অপারেশন-পরবর্তী পরিচর্যা এবং নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে দেওয়া পর্যন্ত সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছে স্বেচ্ছাসেবী টিম।
উছোমং মার্মা বলেন, “কোনো আর্থিক বা সামাজিক লাভের প্রত্যাশা না করে স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে মানবকল্যাণে নিজেদের সময় ও শ্রম দিয়ে এই কার্যক্রম পরিচালনা করছি। একজন মানুষের চোখের আলো ফিরিয়ে দিতে পারাটাই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।"
পাহাড়ের মানুষের চোখের আলো রক্ষায় ধারাবাহিক উদ্যোগপাহাড়ের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের দৃষ্টিশক্তি রক্ষায় ২০২৫ সাল থেকে কাজ করে যাচ্ছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য কে এস মং। এর আগে বান্দরবানের দুর্গম রোয়াংছড়ি ও রুমা উপজেলায় সফলভাবে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প পরিচালনা করা হয়েছে।
এবার সেই ধারাবাহিকতায় বান্দরবান জেলা সদরের সুবিধাবঞ্চিত রোগীদেরও বিনামূল্যে ছানি অপারেশন ও চক্ষু চিকিৎসার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় চিকিৎসাসেবা পাওয়া যেখানে অনেক মানুষের জন্য এখনো বড় চ্যালেঞ্জ, সেখানে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চোখের চিকিৎসা ও অপারেশনের সুযোগ পাওয়ায় রোগীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে স্বস্তি ও আনন্দ। অনেকের কাছে এই উদ্যোগ শুধু চিকিৎসাসেবা নয়—হারিয়ে যাওয়া দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ার নতুন আশার নাম।
স্থানীয়দের মতে, পাহাড়ের প্রত্যন্ত ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য এ ধরনের মানবিক চিকিৎসা উদ্যোগ নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকলে এর সুফল আরও বৃহৎ জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছাবে।চলমান কার্যক্রমের আয়োজকদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতেও পাহাড়ের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে থেকে ‘সুস্থ চোখ, সুন্দর জীবন’-এর বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হবে।