রান্নার মাঝপথে লবণ কিংবা নিত্যপ্রয়োজনীয় কোনো পণ্য ফুরিয়ে গেছে, কিন্তু বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। আবার বয়স্ক মা-বাবার জরুরি ওষুধ আনতে হবে, অথচ পরিবারের অন্য সদস্যরা ব্যস্ত। এমন দৈনন্দিন নানা সমস্যার সহজ সমাধান দিতে বান্দরবান শহরে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে স্থানীয় লজিস্টিক ও ডেলিভারি প্ল্যাটফর্ম ‘সাথী’।
আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করবে তরুণ উদ্যোক্তাদের উদ্যোগে গড়ে ওঠা এই প্ল্যাটফর্ম। উদ্যোক্তাদের দাবি, ‘সাথী’ শুধু পার্সেল বা ডেলিভারি সার্ভিস নয়; বরং শহরের গৃহিণী, চাকরিজীবী, অনলাইন ব্যবসায়ী ও বয়স্ক নাগরিকদের দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে একটি পূর্ণাঙ্গ সার্ভিস ইকোসিস্টেম হিসেবে কাজ করবে।
সাথী টিমের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, “বান্দরবানের মানুষের প্রতিদিনের বাস্তব সমস্যা থেকেই এই উদ্যোগের জন্ম। আমরা চাই শহরের প্রতিটি মানুষ, বয়স বা পেশা যাই হোক না কেন, ঘরে বসেই তার প্রয়োজনটুকু মিটিয়ে নিতে পারুক।”
প্ল্যাটফর্মটির মাধ্যমে ওয়েবসাইট থেকে সেবা নেওয়ার পাশাপাশি ফেসবুক মেসেজ ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমেও অর্ডার করার সুযোগ থাকবে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে তুলনামূলক কম অভ্যস্ত মানুষের কথা বিবেচনা করেই এসব বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এদিকে, বান্দরবানে সাম্প্রতিক সময়ে ফেসবুকভিত্তিক ছোট ও মাঝারি ব্যবসার প্রসার ঘটেছে। এসব অনলাইন উদ্যোক্তাদের অন্যতম সমস্যা হচ্ছে ক্রেতার কাছে পণ্য পৌঁছে দেওয়ার জন্য নির্ভরযোগ্য লজিস্টিক সেবার অভাব। এই সমস্যা সমাধানেও কাজ করার লক্ষ্য রয়েছে ‘সাথী’র।
উদ্যোক্তারা জানান, পণ্য ও পার্সেল ডেলিভারির পাশাপাশি স্থানীয় অনলাইন ব্যবসায়ীদের জন্য নির্ভরযোগ্য ডেলিভারি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। একই সঙ্গে বান্দরবানের স্থানীয় তরুণদের রাইডার হিসেবে যুক্ত করে কমিউনিটি-বেইজড ডেলিভারি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে চায় প্রতিষ্ঠানটি।
তরুণ উদ্যোক্তাদের এই নতুন উদ্যোগ বান্দরবান শহরের মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে কতটা সহজ করতে পারে এবং স্থানীয় অনলাইন ব্যবসায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে—এখন সেটিই দেখার বিষয়।