বান্দরবানের লামা উপজেলার ৩নং ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নকে বিভক্ত করে ‘৮নং ইয়াংছা ইউনিয়ন’ নামে নতুন ইউনিয়ন গঠনের লক্ষ্যে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) লামা উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ইয়াংছা এলাকায় এ গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইয়াংছা ও আশপাশের এলাকার বিপুলসংখ্যক স্থানীয় বাসিন্দা অংশ নেন। প্রস্তাবিত নতুন ইউনিয়ন গঠন, সম্ভাব্য সীমানা, প্রশাসনিক সুবিধা, যোগাযোগব্যবস্থা এবং নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার বিভিন্ন দিক নিয়ে গণশুনানিতে আলোচনা হয়।

গণশুনানিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মঈন উদ্দিন। এ সময় ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা রুহুল আমিন খন্দকার, ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ফসিউল আলম, যুবদল নেতা আবু বক্করসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

গণশুনানিতে স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকার কারণে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বিভিন্ন নাগরিক সেবা নিতে ইয়াংছা ও আশপাশের এলাকার মানুষকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়। এতে সময় ও অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি নানা ধরনের ভোগান্তিতে পড়তে হয় তাদের।

স্থানীয়দের দাবি, পৃথক ‘৮নং ইয়াংছা ইউনিয়ন’ প্রতিষ্ঠিত হলে জন্মনিবন্ধন, নাগরিক সনদ, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, সরকারি সহায়তা ও অন্যান্য নাগরিক সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় সমস্যাগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন এবং উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণের সুযোগও বাড়বে।

শুনানিতে অংশ নেওয়া বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রস্তাবিত ইউনিয়নের সীমানা ও অন্তর্ভুক্ত এলাকার বিষয়েও মতামত দেন। তারা বলেন, সীমানা নির্ধারণের সময় ভৌগোলিক অবস্থান, জনসংখ্যা, জনবসতি, যোগাযোগব্যবস্থা এবং মানুষের দৈনন্দিন চলাচলের বাস্ববতা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

 

এ ছাড়া নতুন ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয় কোথায় স্থাপন করা হবে, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও জনবল কীভাবে নিশ্চিত করা হবে এবং সাধারণ মানুষ কীভাবে সহজে সেবা পাবেন—এসব বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়।

স্থানীয়রা আরও বলেন, নতুন ইউনিয়ন গঠিত হলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, সড়ক যোগাযোগ, অবকাঠামো ও সামাজিক উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে স্থানীয় চাহিদাকে অগ্রাধিকার দেওয়া সম্ভব হবে। এতে ইয়াংছা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

গণশুনানিতে সংশ্লিষ্টরা জানান, স্থানীয় জনগণের মতামত ও বিভিন্ন প্রস্তাব গুরুত্বের সঙ্গে নথিবদ্ধ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত ইউনিয়ন গঠনের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক সক্ষমতা, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, জনবল, সীমানা নির্ধারণ এবং সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিবিধান যথাযথভাবে বিবেচনা করা হবে।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গণশুনানিতে পাওয়া মতামত ও প্রস্তাব পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় বিবেচনা করা হবে। তবে ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন বিভক্ত করে ‘৮নং ইয়াংছা ইউনিয়ন’ গঠনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও নির্ধারিত প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।

গণশুনানিতে অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরে প্রস্তাবিত ইউনিয়ন গঠনের প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার দাবি জানান। তাদের প্রত্যাশা, ‘৮নং ইয়াংছা ইউনিয়ন’ প্রতিষ্ঠিত হলে স্থানীয় জনগণের নাগরিক সেবা, প্রশাসনিক যোগাযোগ ও উন্নয়ন কার্যক্রম আরও সহজ ও কার্যকর হবে।