দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা,জেলা বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব এবং অতীতে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা—সব মিলিয়ে আবারও জেলা পরিষদে ফিরেছেন বিএনপি নেতা লুসাই মং।
সম্প্রতি সরকার পুনর্গঠিত বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের ১৪ সদস্যের মধ্যে লুসাই মংকে সদস্য হিসেবে মনোনীত করেছে। গত ২০ আগস্ট পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে নতুন পরিষদের সদস্যদের তালিকায় তাঁর নাম প্রকাশ করা হয়।
লুসাই মংয়ের জেলা পরিষদে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা নতুন নয়। বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সরকারি ওয়েবসাইটে সংরক্ষিত সাবেক চেয়ারম্যান ও সদস্যদের তালিকায় ‘Lusai Mong’ নামের একজন কাউন্সিলরের দায়িত্বকাল ২১ মার্চ ১৯৯৬ থেকে ৫ আগস্ট ১৯৯৭ পর্যন্ত উল্লেখ রয়েছে।
দীর্ঘ সময় পর একই প্রতিষ্ঠানটিতে আবারও সদস্য হিসেবে ফিরলেন তিনি। ফলে তাঁর নতুন দায়িত্বে আগের পরিষদ পরিচালনার অভিজ্ঞতাও কাজে লাগতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
লুসাই মং দীর্ঘদিন ধরে বান্দরবান জেলা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ২০২৫ সালের ৫ জুন বিএনপির অনুমোদিত বান্দরবান জেলা বিএনপির ৪৬ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটিতে তাঁকে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়।
জেলা বিএনপির এই কমিটিতে যে কয়েকজন প্রবীণ ও সক্রিয় রাজনৈতিক নেতার মধ্যে তিনি অন্যতম। ফলে দলীয় রাজনীতিতে তাঁর সাংগঠনিক অবস্থান ছিলো গুরুত্বপূর্ণ।
নতুন পরিষদে রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার প্রতিফলন২০ আগস্ট ২০২৬ সরকার সাবেক সংসদ সদস্য ও বান্দরবান জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মাম্যাচিংকে চেয়ারম্যান করে ১৫ সদস্যের অন্তর্বর্তীকালীন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ পুনর্গঠন করে। চেয়ারম্যানের পাশাপাশি ১৪ জন সদস্যের নাম ঘোষণা করা হয়; তাঁদের মধ্যে রয়েছেন লুসাই মং।
নতুন পরিষদের সদস্যদের মধ্যে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত একাধিক নেতা রয়েছেন।
লুসাই মংয়ের মতো দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন নেতার অন্তর্ভুক্তি পরিষদের কর্মকাণ্ডে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার সমন্বয় ঘটাতে পারে।
নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর ২৩ আগস্ট বান্দরবান জেলা বিএনপির আয়োজিত চেয়ারম্যান মাম্যাচিংয়ের গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে লুসাই মংও উপস্থিত ছিলেন। সেখানে নবনির্বাচিত জেলা পরিষদ সদস্য হিসেবে তাঁকে দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে অনুষ্ঠানে অংশ নিতে দেখা যায়।
এখন তাঁর সামনে বড় দায়িত্ব হলো দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে জেলা পরিষদের উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখা। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, যোগাযোগ, স্থানীয় অবকাঠামোসহ পার্বত্য জেলার বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে জেলা পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে।
বিশেষ করে পাহাড়ি-বাঙালি সব জনগোষ্ঠীর মধ্যে শান্তি,সম্প্রীতি ও সমন্বয় বজায় রেখে কাজ করা নতুন পরিষদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। সেই জায়গায় লুসাই মং তাঁর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা কতটা কাজে লাগাতে পারেন,সেটিই এখন দেখার বিষয়।
লুসাই মংয়ের রাজনৈতিক জীবনের উল্লেখযোগ্য দিক হলো—তিনি একদিকে দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় থেকে জেলা পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন, অন্যদিকে অতীতেও জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।
১৯৯৬ সালে জেলা পরিষদের সদস্য ছিলেন, ২০২৬ সালে পুনর্গঠিত জেলা পরিষদের সদস্য প্রায় তিন দশকের ব্যবধানে তাঁর জেলা পরিষদে এই প্রত্যাবর্তন বান্দরবানের রাজনৈতিক অঙ্গনে নিঃসন্দেহে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা।