বান্দরবান সদর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য চনু মং মার্মা এবার বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত সদস্য হয়েছেন। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পর জেলা পরিষদের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পাওয়ায় তাঁর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিচয়ে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে।

সম্প্রতি বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ পুনর্গঠন করা হয়। নতুন পরিষদের সদস্যদের তালিকায় চনু মং মার্মার নাম রয়েছে। দায়িত্ব পাওয়ার পর দলীয় নেতাকর্মী,শুভাকাঙ্ক্ষী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে।

চনু মং মার্মা দীর্ঘদিন ধরে বান্দরবানের বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। বান্দরবান জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক থেকে পরবর্তী সময়ে তিনি সদর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করেন। বিএনপির বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি ও গণমিছিলে তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি বিভিন্ন সভা,সমাবেশ,গণসংযোগ ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতেও তাঁকে সক্রিয় দেখা গেছে।

২০২৫ সালের জুন মাসে সাচিং প্রু জেরীকে আহ্বায়ক এবং মোহাম্মদ জাবেদ রেজাকে সদস্যসচিব করে বান্দরবান জেলা বিএনপির ৪৬ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন করা হয়। বিএনপির প্রকাশিত কমিটির তালিকায় চনু মংকে সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে।

এর ফলে সদর উপজেলা পর্যায়ের সাংগঠনিক দায়িত্বের পাশাপাশি জেলা বিএনপির রাজনীতিতেও তাঁর অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়।

রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সামাজিক-সাংস্কৃতিক সম্পৃক্ততা চনু মং মার্মার কর্মকাণ্ড শুধু দলীয় রাজনীতিতে সীমাবদ্ধ নয়। বান্দরবানের মারমা সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ঐতিহ্যবাহী উৎসব সাংগ্রাই আয়োজনের সঙ্গেও তিনি যুক্ত ছিলেন।

২০২৬ সালের সাংগ্রাই উৎসবকে কেন্দ্র করে গঠিত একটি উৎসব উদযাপন পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন,উৎসব আয়োজনকে ঘিরে সৃষ্ট বিরোধের সময়ও তাঁকে ওই উৎসব উদযাপন পরিষদের সভাপতি হিসেবে বিভিন্ন কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিতে দেখা যায়।

চনু মং মার্মার নতুন দায়িত্বকে ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার পর এবার তাঁকে জেলা পরিষদের উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হতে হবে।

বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ জেলার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, স্থানীয় অবকাঠামো, সামাজিক উন্নয়নসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে কাজ করে। পার্বত্য জেলার ভৌগোলিক ও সামাজিক বাস্তবতার কারণে পরিষদের দায়িত্বও তুলনামূলকভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ করে পাহাড়ি-বাঙালি সব জনগোষ্ঠীর সহাবস্থান, দুর্গম এলাকার শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, কৃষি ও স্থানীয় অর্থনীতি, যুবসমাজের কর্মসংস্থান এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন—এসব ক্ষেত্রে জেলা পরিষদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

চনু মং মার্মার সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে গিয়ে জেলা পরিষদের দায়িত্ব পালন করা। একজন সক্রিয় রাজনৈতিক নেতা হিসেবে তাঁর পূর্বপরিচয় থাকলেও জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে জেলার সব জনগোষ্ঠীর স্বার্থকে সমান গুরুত্ব দেওয়ার প্রত্যাশা থাকবে।

বিশেষ করে বান্দরবানের পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর মধ্যে সম্প্রীতি বজায় রাখা, দুর্গম এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং সরকারি উন্নয়ন কার্যক্রমের সুফল প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা স্থানীয়দের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

সামনে বড় দায়িত্ব দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পর জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবে চনু মং মার্মার সামনে এখন নতুন অধ্যায়। মাঠের রাজনীতিতে তাঁর অভিজ্ঞতা প্রশাসনিক ও জনকল্যাণমূলক কাজে কতটা কার্যকরভাবে কাজে লাগে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে তিনি বান্দরবানের সব জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করবেন এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, কৃষি, পর্যটন, কর্মসংস্থান ও সামাজিক সম্প্রীতি উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।

রাজনীতির মাঠ থেকে প্রশাসনিক দায়িত্বে তাঁর এই যাত্রা তাই শুধু ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারে নতুন সংযোজন নয়; বান্দরবানের স্থানীয় উন্নয়ন ও বহুজাতিক সামাজিক বাস্তবতায় তাঁর ভূমিকা কেমন হয়, সেদিকেও এখন নজর থাকবে।