শ্যালো মেশিনে বালু উত্তোলন, প্রতিদিন যাচ্ছে শতাধিক যানবাহন

বান্দরবানের লামা উপজেলায় বৈধ ইজারা ছাড়াই বিভিন্ন নদী, খাল, ছড়া ও ঝিরি থেকে অবাধে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, উপজেলার সরই, ফাঁসিয়াখালী, লামা সদর, আজিজনগর ইউনিয়ন ও লামা পৌরসভা এলাকায় শতাধিক পয়েন্টে শ্যালো মেশিন বসিয়ে বালু তোলা হচ্ছে।

সরেজমিনে জানা গেছে, শুধু সরই ইউনিয়নে প্রায় ৪০টি এবং ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নে প্রায় ৩০টি বালু উত্তোলন পয়েন্ট রয়েছে। এছাড়া অন্যান্য এলাকাতেও বিভিন্ন পয়েন্টে বালু উত্তোলন চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। মাতামুহুরি নদী, পানির ছড়া, পেতইন্যার ছড়া, বমু খাল, রেজু খাল ও ফুইট্যা ঝিরিসহ বিভিন্ন স্থান থেকে উত্তোলন করা বালু ডাম্প ট্রাক, মিনি ট্রাক, ট্রলি ও ট্রাক্টরে করে পরিবহন করা হচ্ছে। স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন এসব পয়েন্ট থেকে শতাধিক যানবাহনে বালু পরিবহন করা হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্তমানে এসব বালু উত্তোলন পয়েন্টের বৈধ ইজারা নেই। কোথাও কোথাও পুরোনো ইজারা কাগজ দেখিয়ে বালু উত্তোলনের বৈধতা দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এতে নদী-খাল ও ছড়ার স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি নদীর পাড় ভাঙন, গভীর গর্ত সৃষ্টি এবং কৃষিজমি ও সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এদিকে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে অভিযান, জরিমানা ও শ্যালো মেশিন জব্দ করা হলেও অভিযোগ রয়েছে, অভিযান শেষ হওয়ার পর আবারও একই এলাকায় বালু উত্তোলন শুরু হচ্ছে।

লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মঈন উদ্দিন বলেন, “বিভিন্ন অবৈধ বালু পয়েন্টে জরিমানা করা হয়েছে, শ্যালো মেশিন জব্দ করা হয়েছে, অভিযান অব্যাহত আছে।” তিনি জানান, ফাঁসিয়াখালী, সরই ও আজিজনগরের কিছু পয়েন্ট পার্শ্ববর্তী চকরিয়া ও লোহাগাড়া উপজেলার সীমানার কাছাকাছি হওয়ায় অভিযানের সময় উত্তোলনকারীরা সীমানার সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করে।

স্থানীয়দের দাবি, শুধু জরিমানা বা মেশিন জব্দ নয়, লামা, চকরিয়া ও লোহাগাড়া প্রশাসনের সমন্বয়ে যৌথ অভিযান চালিয়ে প্রতিটি বালু উত্তোলন পয়েন্ট স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি বালু উত্তোলন ও পরিবহনের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

আরো পড়ুন→রাজপরিবার থেকে মন্ত্রিসভায় সাচিং প্রু জেরী