পাহাড়ের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের চোখের আলো ফিরিয়ে দিতে "সুস্থ চোখ, সুন্দর জীবন" স্লোগানকে সামনে রেখে দ্বিতীয় দফায় আরও ৫০ জন রোগীকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চোখের ছানি অপারেশনের জন্য চট্টগ্রামে পাঠানো হয়েছে।
গত ৮ আগস্ট (শনিবার) সকালে বান্দরবান সদর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সামনে থেকে রোগীদের নিয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে গাড়ি ছেড়ে যায়। সেখানে তাঁদের চিকিৎসার প্রয়োজন অনুযায়ী চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্বনামধন্য হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের মাধ্যমে ছানি অপারেশনসহ প্রয়োজনীয় সকল চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।
এর আগে, গত ৪ জুলাই বান্দরবান সদর উপজেলার রেইছা উচ্চ বিদ্যালয়ে একটি দিনব্যাপী 'মেগা চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প' অনুষ্ঠিত হয়। সেখান থেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মোট ৪৮৬ জন ছানি পড়া রোগীকে বিনামূল্যে অপারেশনের জন্য চূড়ান্ত করা হয়। নির্বাচিত রোগীদের মধ্য থেকে ১ম দফায় ১০০ জন এবং সম্প্রতি ২য় দফায় ৫০ জন রোগীকে চট্টগ্রামে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হলো।
পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য কে এস মং-এর সার্বিক ব্যবস্থাপনা এবং কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের কারিগরি সহযোগিতায় এই বৃহৎ চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমটি পরিচালিত হচ্ছে।
এ বিষয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য কে এস মং বলেন, "দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের বহু মানুষ আধুনিক চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত। বিশেষ করে অর্থের অভাবে অনেকেই চোখের ছানি অপারেশন করাতে পারছিলেন না। এই মানুষগুলোর চোখের আলো ফিরিয়ে দেওয়া আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। তাঁদের সঠিক ও সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতেই আমাদের এই আন্তরিক আয়োজন।"
রোগীদের বিদায় ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে উপস্থিত ছিলেন উছোমং মার্মা, সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অংসাহ্লা মার্মা,ইউপি সদস্য বিরল তঞ্চঙ্গ্যা,ও মো:হানিফসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
উল্লেখ্য, পাহাড়ি এলাকার মানুষের দৃষ্টিশক্তি রক্ষা ও উন্নত চক্ষু সেবা পৌঁছে দিতে ২০২৫ সাল থেকেই নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছেন কে এস মং। ইতিপূর্বে বান্দরবানের অত্যন্ত দুর্গম উপজেলা রোয়াংছড়ি এবং রুমাতেও সফলভাবে অনুরূপ বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প পরিচালনা করা হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় এবার সদর উপজেলার রোগীরা এই সেবার সুযোগ পাচ্ছেন। মানবিক ও মহতী এই উদ্যোগে বিনামূল্যে চোখের আলো ফিরে পাওয়ায় স্থানীয় পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মাঝে বইছে আনন্দের জোয়ার এবং কার্যক্রমটি সর্বমহলে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে।
আরো পড়ুন→লামায় বর্ষাতেও থেমে নেই পাহাড় কাটা, মাটি যাচ্ছে ইটভাটায়