বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নের ফাদুরছড়া এলাকায় দুই বোনের বিরুদ্ধে ভূমি জালিয়াতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম বিরোধ ও ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, একই জমি একাধিক ব্যক্তির কাছে বিক্রি এবং কয়েকজনকে জমি বুঝিয়ে দিলেও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না দেওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে জটিলতা তৈরি হয়েছে।

অভিযুক্ত দুই বোন হলেন ফাদুরছড়া এলাকার মৃত আব্দু ছালাম ও মৃত খুরশিদা খাতুনের কন্যা মদিনা বেগম (৫০) ও জরিনা বেগম (৪৭)। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দুই বোনের সরলতা ও অসহায়ত্বকে কাজে লাগিয়ে একটি চক্র জমির ক্রেতাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায়ের চেষ্টা করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৩০৬ নম্বর ফাইতং মৌজার ফাদুরছড়া এলাকায় আর/৩৩০ নম্বর হোল্ডিংভুক্ত ৫ একর তৃতীয় শ্রেণির জমির মালিক ছিলেন মৃত আব্দু ছালাম। ২০১৭ সালে ‘মক্কা মদিনা ব্রিকস (এমএমবি)’ নামে একটি ইটভাটা স্থাপনের জন্য তার স্ত্রী খুরশিদা খাতুন ও দুই মেয়ে মদিনা বেগম এবং জরিনা বেগম পাঁচ বছরের জন্য জমিটি ভাড়া দেন। পরে ২০১৯ সালের ১৬ এপ্রিল চুক্তিনামা দলিল নং-২৮৮/২০১৯ মূলে ৪ একর ৯০ শতক জমি রুহুল আমিনের কাছে বিক্রি করা হয়। এ নিয়ে মামলা হলে দেওয়ানি আদালত রুহুল আমিনকে বৈধ মালিক হিসেবে স্বীকৃতি দেন বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেন।

ইটভাটার মালিকপক্ষের প্রতিনিধি মুমিনুল ইসলাম ও গিয়াস উদ্দিন জানান, রুহুল আমিনের কাছ থেকে বায়নানামা দলিল নং-৩০৫/২০২১ ও ২৪২/২০২২ মূলে ৩ একর ১০ শতক জমি ওয়াহিদুল ইসলাম ক্রয় করেন। অবশিষ্ট অংশ ফরিদ উদ্দিন ক্রয় করেন। এছাড়া মৃত আব্দু ছালামের দ্বিতীয় স্ত্রী ও সন্তানদের অংশ এবং পার্শ্ববর্তী আলী হোসেনের ৫ একর জমিও ইটভাটার প্রয়োজনে ভাড়া নেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, রেকর্ড অনুযায়ী যে পরিমাণ জমি রয়েছে, বাস্তবে ততটুকু দখলে নেই। এরপরও একটি পক্ষ তাদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করতে না পেরে মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, রুহুল আমিনের কাছে জমি বিক্রির পরও মদিনা বেগম ও জরিনা বেগম তথ্য গোপন করে গ্রাম্য কাগজের মাধ্যমে মমতাজ বেগম, জাহাঙ্গীর আলম, হামিদা বেগম, মো. লালু ও নুরুল কবিরের কাছে মোট ৯০ শতক জমি বিক্রি করেন। ভুক্তভোগীদের দাবি, জমি বুঝিয়ে দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কোনো বৈধ কাগজপত্র দেওয়া হয়নি।

মমতাজ বেগম বলেন, “দুই বোন বর্তমানে এলাকায় থাকেন না। জমি বিক্রি করে অন্যত্র চলে গেছেন। এখন কিছু ভূমিদস্যু ও দালালকে সঙ্গে নিয়ে ইটভাটা কর্তৃপক্ষ ও আমাদের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করছেন। টাকা না দেওয়ায় আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য প্রচার করা হচ্ছে।”

এই বিষয়ে মদিনা বেগম বলেন, “জমিটি আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি। আমরা কোনো জমি বিক্রি করিনি। ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে আমাদের জমি হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা পৈতৃক সম্পত্তি উদ্ধার এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

এ বিষয়ে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাইছার হামিদ বলেন, “এটি মূলত একটি ভূমি-সংক্রান্ত বিরোধ। বিষয়টির আইনগত নিষ্পত্তি আদালতেই হবে। তবে এ ঘটনায় যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না ঘটে, সে জন্য ফাইতং পুলিশ ফাঁড়িকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”