"সুস্থ চোখ, সুন্দর জীবন"—এই মানবিক স্লোগানকে সামনে রেখে বান্দরবানের পাহাড়ি অঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় আধুনিক চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে শুরু হয়েছে বিশেষ বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প।

এই উদ্যোগের প্রথম ধাপে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চোখের ছানি অপারেশনের পর চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে চট্টগ্রামে থেকে আজ ২২ই জুলাই (বুধবার) দুপুরে বান্দরবানে ফিরে এসেছেন ১০০ জন রোগী।

গত ৪ঠা জুলাই বান্দরবান সদর উপজেলার রেইছা উচ্চ বিদ্যালয়ে দিনব্যাপী এই চক্ষু ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে উপজেলার শত শত রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চশমা দেওয়া হয়।

ক্যাম্প থেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর বিনামূল্যে ছানি অপারেশনের জন্য চূড়ান্তভাবে ৪৮৬ জন রোগীকে বাছাই করা হয়।বাছাইকৃত রোগীদের মধ্য থেকে প্রথম দফায় ১০০ জনকে উন্নত ছানি অপারেশনের জন্য গত ২০শে জুলাই (সোমবার) সকালে চট্টগ্রামে পাঠানো হয়েছিল।

আজ ছানি অপারেশন সফলভাবে সম্পন্ন করে বান্দরবানে ফেরত আসা প্রবীণ ও সুবিধাবঞ্চিত রোগীদের সার্বিক খোঁজখবর নিতে উপস্থিত ছিলেন আয়োজক কমিটির দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ। এদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক উছোমং মার্মা, উচসিং মার্মা এবং সাংবাদিক বাবুল খাঁনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য কে এস মং-এর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এবং দেশের অন্যতম স্বনামধন্য 'চট্টগ্রাম লায়ন্স দাতব্য চক্ষু হাসপাতাল'-এর কারিগরি সহযোগিতায় এই মানবিক কার্যক্রমটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।

উল্লেখ্য, পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের চোখের আলো টিকিয়ে রাখতে ২০২৫ সাল থেকে ধারাবাহিক ও নিরবচ্ছিন্নভাবে এই সেবা কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। এর আগে বান্দরবানের অত্যন্ত দুর্গম এলাকা রোয়াংছড়ি ও রুমাতেও সফলভাবে এই ধরনের চক্ষু ক্যাম্প সম্পন্ন হয়েছিল।

অর্থের অভাবে যারা দীর্ঘদিন ছানি অপারেশন করাতে পারছিলেন না, সেই প্রবীণ ব্যক্তিরা বিনামূল্যে হারিয়ে যাওয়া দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ায় স্থানীয় পাহাড়ী-বাঙালী সর্বস্তরের জনগোষ্ঠীর মাঝে এই উদ্যোগ ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

আরো পড়ুন→নাইক্ষ্যংছড়িতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব জাবেদ রেজা