বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার তারাছা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের তালুকদার পাড়ায় ভয়াবহ বন্যার এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনো পৌঁছায়নি সরকারি কোনো ত্রাণ সহায়তা। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৭৪টি পরিবারের একমাত্র নিরাপদ আশ্রয় ছিল পাড়ার উঁচু স্থানে অবস্থিত বৌদ্ধ বিহার।

বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেলে সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, বন্যার পানি নেমে গেলেও সর্বত্র ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। পাড়ার আশপাশের শসা ক্ষেত, ধানক্ষেতসহ বিভিন্ন ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পাহাড়ি ঢলে ভেসে গেছে কৃষকদের উৎপাদিত প্রায় সব ফসল। এতে নিমিষেই নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন অনেক কৃষক।

[caption id="attachment_32498" align="alignnone" width="350"] বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর পাড়ার প্রবেশ পথে জমে আছে কাদামাটি। এই কাদামাখা রাস্তা দিয়ে যায়নি কোনো সরকারি ত্রাণ।[/caption]

স্থানীয়রা জানান, পাড়ার উঁচু স্থানে থাকা কয়েকটি ঘর ছাড়া প্রায় সব বাড়িতেই বন্যার পানি প্রবেশ করেছিল। জীবন বাঁচাতে তারা পাড়ার বৌদ্ধ বিহারে আশ্রয় নেন। কিন্তু বন্যা-পরবর্তী সময়ে এখনো তারা সরকারি কোনো ত্রাণ সহায়তা পাননি। এমনকি ক্ষয়ক্ষতির খোঁজ নিতে সরকারি কোনো কর্মকর্তা বা জনপ্রতিনিধিও সেখানে যাননি বলে অভিযোগ করেন তারা।

স্থানীয়দের দাবি, বুধবার দুপুরে বান্দরবান সদর থেকে একদল তরুণ স্বেচ্ছাসেবী এসে ৭৪টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে কিছু ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন। তবে এর আগে সরকারি কোনো সহায়তা তাদের কাছে পৌঁছেনি।

পাড়ার কারবারির ভাই উবাচিং মারমা বলেন, “এখনো পর্যন্ত পাড়াবাসী কোনো সরকারি ত্রাণ সহায়তা পায়নি। কৃষিজমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কৃষিকাজই আমাদের প্রধান জীবিকার উৎস। ফসল হারিয়ে অনেক কৃষক এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। দ্রুত সরকারি সহায়তা ও কৃষি পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা জরুরি।”

[caption id="attachment_32502" align="alignnone" width="350"] পাড়ার দোকানে বেকার সময় পার করছেন ফসল হারা কৃষকেরা[/caption]

বন্যার পানি নেমে গেলেও জীবিকা হারানোর সংকট এখনো কাটেনি। তাই মানবিক সহায়তার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনরায় ঘুরে দাঁড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

আরো পড়ুন→বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের খাদ্য সহায়তা পেল রুমা উপজেলা