পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত ৫৪ শতাংশ বাঙালি জনগোষ্ঠীর আয়কর মওকুফ এবং তিন পার্বত্য জেলার বাজারফান্ড এলাকায় স্থগিত থাকা ব্যাংক ঋণ পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছে ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ’।
সোমবার (৬ জুলাই ২০২৬) সকালে বান্দরবান সদরের গ্রান্ডভ্যালি রেঁস্তোরায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান কাজী মোঃ মজিবর রহমান এই দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, সম্প্রতি জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে দেশের সকল উপজাতীয় ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায়ের আয়কর মওকুফের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও একই অঞ্চলে বসবাসকারী অর্ধেকেরও বেশি (৫৪ শতাংশ) বাঙালি জনগোষ্ঠীকে এই সুবিধার বাইরে রাখায় চরম অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্য তৈরি হয়েছে।
বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পরিসংখ্যান ব্যুরো ও পরিকল্পনা কমিশনের ২০২৫ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী বান্দরবান বাংলাদেশের অন্যতম দরিদ্রতম জেলা, যার একটি বড় অংশই এখানকার সাধারণ বাঙালি বাসিন্দা। দীর্ঘ চার দশক ধরে উপজাতিরা করমুক্ত সুবিধা ভোগ করে অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে গেলেও, পাহাড়ের বাঙালিরা প্রতিনিয়ত কর দিয়েও ব্যবসা, শিক্ষা, চাকরি ও ভূমি ব্যবস্থাপনাসহ সব ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। একই ভৌগোলিক অঞ্চলে বসবাসকারী নাগরিকদের মধ্যে এই ধরনের কর বৈষম্য সংবিধানে বর্ণিত ‘নাগরিকদের সমঅধিকার’ নীতির পরিপন্থী।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, ২০১৯ সালের ডিসেম্বর থেকে তিন পার্বত্য জেলার বাজারফান্ড এলাকার জায়গার বিপরীতে ব্যাংক ঋণ অলিখিতভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম রেগুলেশন ও জেলা পরিষদ আইনের মধ্যে প্রয়োজনীয় সমন্বয় না থাকায় সোনালী, ইসলামী, জনতাসহ ১৭টি ব্যাংক নতুন ঋণ প্রদান ও পুরাতন ঋণ নবায়ন স্থগিত রেখেছে। বাজারফান্ড এলাকায় প্রায় ৮০ শতাংশ বাঙালি বসবাস করায় এই আইনি জটিলতার কারণে সাধারণ ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ চরম অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন, যার ফলে পাহাড়ের ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা নেমে এসেছে।
পার্বত্য অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি, সমতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তিন পার্বত্য জেলার পিছিয়ে পড়া বাঙালিদের আয়কর মওকুফ এবং বাজারফান্ডের আওতাধীন প্লট বা জায়গার বিপরীতে ব্যাংক ঋণ সুবিধা দ্রুত চালু করতে প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের উচ্চ পর্যায়ের মহলের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। একই সাথে পাহাড়ের ৪ জন সংসদ সদস্যকে এই বৈষম্য দূরীকরণে যৌথ ও জোরালো উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের বান্দরবান জেলা সভাপতি মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, সাধারণ সম্পাদক মোঃ নাছির উদ্দিন, কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক মোঃ শাহজালাল, বিশিষ্ট ঠিকাদার মোঃ মোজাফফর, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নুরুল আলম এবং প্রবীণ সাংবাদিক আবুল বশর সিদ্দিক প্রমুখ।