পার্বত্য অঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের দোরগোড়ায় আধুনিক ও উন্নত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে বান্দরবান সদরে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে একটি বৃহৎ বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প। "সুস্থ চোখ, সুন্দর জীবন"—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আগামী ৪ঠা জুলাই ২০২৬ (শনিবার) বান্দরবান সদর উপজেলাধীন সদর ইউনিয়নের রেইছা উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এই ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হবে।

ওই দিন সকাল ৮:০০ টা থেকে বিকাল ৩:০০ টা পর্যন্ত আগত রোগীদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চশমা বিতরণসহ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মাধ্যমে আধুনিক চিকিৎসাসেবা ও পরামর্শ প্রদান করা হবে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের মাননীয় সদস্য উ: কে এস মং-এর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এবং ৩নং বান্দরবান সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অংসাহ্লা মার্মা-এর বিশেষ উদ্যোগে এই মানবিক ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়েছে। ক্যাম্পে চিকিৎসা সেবা ও কারিগরি সহযোগিতা প্রদান করবে দেশের স্বনামধন্য চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান 'চট্টগ্রাম লায়ন্স দাতব্য চক্ষু হাসপাতাল'।

এদিকে, চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্পটি সফল, সুশৃঙ্খল ও জনবান্ধব উপায়ে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে আজ ৩০শে জুন (মঙ্গলবার) বিকাল ৪ টায় রেইছা উচ্চ বিদ্যালয় হল রুমে এক গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয় ও প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৩নং বান্দরবান সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অংসাহ্লা মার্মার সভাপতিত্বে সভাটি সম্পন্ন হয়।

উক্ত সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য উ: কে এস মং। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আয়োজন কমিটির সভাপতি উছোমং মার্মা। বান্দরবান সদর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান বিরল তঞ্চঙ্গ্যার সঞ্চালনায় সভায় অন্যան্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন রাজনৈতিক নেতা ও সমাজকর্মী মোহাম্মদ আলী, মংক্যাউ বাজার চৌধুরী, ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম, শৈসিং মারমা, অজিত তঞ্চঙ্গ্যা, মো: হানিফ, রাজনৈতিক নেতা ও সমাজকর্মী মোঃ নাজিমুদ্দিন এবং সিএইচসিপি (CHCP) সাচিং নু মারমা।

এছাড়াও আয়োজন কমিটির সম্মানিত সদস্য বাবুল খাঁন, প্রকৃতি বড়ুয়া, উচসিং মার্মা, সাইফুল আলম, আবদুল মান্নান এবং বান্দরবান সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন পাড়ার কার্বারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য উ: কে এস মং এক মানবিক ও দায়িত্বশীল সমাজ বিনির্মাণের আহ্বান জানিয়ে বলেন।

"ভৌগোলিক দুর্গমতা ও অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে পার্বত্য অঞ্চলের বহু মানুষ এখনো নিয়মতান্ত্রিক আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা ও উন্নত চোখের চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। দৃষ্টিশক্তি মানুষের জীবনের এক অমূল্য সম্পদ। তথাকথিত প্রচারণার বাইরে গিয়ে প্রত্যন্ত ও পাহাড়ি জনপদের প্রকৃত সুবিধাবঞ্চিত এবং অসহায় মানুষ যেন এই ক্যাম্প থেকে সর্বোচ্চ চক্ষু সেবা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিতভাবে গ্রহণ করতে পারেন, আমাদের সেই উদ্যোগ নিতে হবে।"

তিনি আরও বলেন,"একটি মানবিক উদ্যোগ তখনই সফল হয় যখন এর ব্যবস্থাপনা থাকে সুশৃঙ্খল। আমি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, পাড়ার কার্বারী, যুবক ও সর্বস্তরের সচেতন জনগণকে দলমত নির্বিশেষে এই সেবামূলক কার্যক্রমে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি। আসুন, আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষের মুখে হাসির ফুটিয়ে তুলি।"

সমন্বয় সভার শেষাংশে বক্তারা ক্যাম্পের শৃঙ্খলা রক্ষা, দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীদের যাতায়াত সুবিধা এবং ব্যাপক প্রচার-প্রচারণার বিষয়ে নানা গঠনমূলক মতামত তুলে ধরেন এবং ক্যাম্পটি সফল করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

আরো পড়ুন→রোয়াংছড়িতে ডেঙ্গু বিস্তার রোধে পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযান