পাহাড়ের বুকে যখন নেমেছে শোষণের ঘোর অমা,

তুমি জ্বেলেছ আলোর মশাল, দেখাওনি ভীরু ক্ষমা।

যেখানে থমকে দাঁড়ায় নিয়তি,শাসকের রাঙা চোখ—

সেখানেই তুমি গেয়েছো গান, জুড়াতে মানুষের শোক।

পাহাড়ের যত আদিবাসী প্রাণ,অধিকার-লড়াকু দল,

তোমার ডাকেই খুঁজে পায় তারা বুকভরা এক বল।

তুমি তো কেবল নেতা নও কোনো,তুমি এ মাটির প্রাণ,

বুকের গভীরে এঁকেছ স্বপ্ন— মানুষের কল্যাণ।

৪৫ বছরের সংগ্রামী পথ,মসৃণ ছিল না তা তো,

শাসকের তৈরি মিথ্যে মামলায় কেটেছে জীবন কতো!

কারাগারের ওই অন্ধকার ঘর,লোহার শিকের গান,

দমাতে পারেনি কোনোদিনও এই বিপ্লবী মহাপ্রাণ।

ষড়যন্ত্রের জাল বুনেছে শাসক,ভেবেছে থামাবে তোমায়,

তারা কি জানে না পাহাড়ের নদী কখনো কি থমকায়?

কারাপ্রাচীর ভেঙে বারেবারে তুমি ফিরেছ আপন ঘরে,

তোমার কর্মযজ্ঞ চলেছে দীপ্ত আলোক-ভরে।

তুমি শাসক নও,তুমি এ জনপদের নীরব এক সেবক,

পাহাড়-অরণ্য-মানুষের বুকে এক দক্ষ সংগঠক।

কে এস মং,তুমি প্রদীপ্ত শিখা,অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঢাল,

তোমার হাত ধরেই আসুক পাহাড়ের নতুন সকাল!