নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বান্দরবানে পরিবেশ বিধ্বংসী কর্মকান্ডের অভিযোগে বান্দরবানে আওয়ামীলীগ নেতা আনিসুর রহমান সুজনসহ পাঁচটি ইটভাটা মালিকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত।
গত বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারী) বান্দরবান সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও স্পেশাল পরিবেশ আদালতের ম্যাজিস্ট্রট মো.আনোয়ার হোসেন গ্রেফতারী পরোয়ানার আদেশ দেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও স্পেশাল পরিবেশ আদালতের. স্টেনোগ্রাফার মো.মাহাবুবুল কাদের।
আদালত ও পরিবেশ অধিদপ্তর সুত্রে জানাযায়, জেলার পাঁচটি উপজেলায় পরিবেশ আইন অমান্য করে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই প্রায় ৭০টি ইটভাটা গড়ে তোলা হয়েছে। এর মধ্যে বর্তমানে ৪২টি ইটভাটা সচল রয়েছে।
এর আগে কয়েকদফা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে কিছু ইটভাটাকে অর্থন্ড দেওয়া হয় এবং বুলডোজার ও এক্সকেভেটর দিয়ে কয়েকটি ভাটা ভেঙে দেওয়া হলেও অবৈধ কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকান্ডের অভিযোগে পরিবেশ অধিদপ্তর আটটি ইটভাটা মালিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। এর মধ্যে পাঁচটি মামলায় আটজন মালিকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে পরিবেশ আদালত।
[caption id="attachment_30866" align="aligncenter" width="350"]
জেলা জুড়ে অর্ধশতাধিক অবৈধ ইটভাটার কার্যক্রম চলছে।[/caption]
পরোয়ানা জারি হওয়া ভাটারর মালিকরা হলেন থানচি উপজেলার MSB ইটভাটা মালিক জেলা আওয়ামীলীগের নেতা মোঃ আনিসুর রহমান সুজন,আলিকদম উপজেলার ABM ইটভাটা মালিক সামশুদ্দিন ও এখলাচুর রহমান, UBM ইটভাটা মালিক জামাল উদ্দিন। FBM ইট ভাটা মালিক সাবেক বন ও পরিবেশ মন্ত্রীর ভাই শওকত তালুকদার এবং নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার BBM ইটভাটার মালিক মোহাম্মদ আবু ছৈয়দ, আবুল বশর ও ফরিদ আহমদ। পরিবেশ অধিদপ্তরের দায়ের করা এসব মামলায় বান্দরবান সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও স্পেশাল পরিবেশ আদালতের ম্যাজিস্ট্রট মো.আনোয়ার হোসেন গ্রেফতারী পরোয়ানার আদেশ দেন।
[caption id="attachment_30869" align="alignnone" width="350"]
পুরো দমে অভিযান চালিয়েও অবৈধ ভাটা গুলোর কার্যক্রম ঠেকাতে পেছেনা প্রশাসন।[/caption]
বিষয়টি নিশ্চিত করে পরিবেশ আদালতের স্টেনোগ্রাফার মো.মাহাবুবুল কাদের বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের দায়ের করা পাঁচটি মামলায় আদালত সংশ্লিষ্ট ইটভাটামালিকদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো.রেজাউল করিম জানান, অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে প্রশাসনের সহযোগিতায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে এসব অবৈধ ইটভাটা থেকে প্রায় ৮০লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে এবং আটটি ভাটার মালিকদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।