
পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন না হওয়ায় এবং ভুমি কমিশন কার্যকর না থাকায় বার বার পাহাড়ীদের ভুমি বেদখল, হামলা ও বসত বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ করেছেন লামায় নাজিরাম ত্রিপুরা পাড়ায় হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নেওয়া বক্তারা।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে বান্দরবান মুক্ত মঞ্চের সামনে বিক্ষুব্ধ আদিবাসী ছাত্রজনতার উদ্যােগে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে বক্তারা এসব অভিযোগ করেন।

অতিসম্প্রতি লামা উপজেলার গজালিয়া ইউনিয়নের নাজিরাম ত্রিপুরা পাড়ায় ভুমি দখলের চেষ্টা,হামলা ও অগ্নিসংযোগের চেষ্টার প্রতিবাদে এ কর্মসুচীর আয়োজন করা হয়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, নাজিরাম ত্রিপুরা পাড়ার বাসিন্দা শিমন ত্রিপুরা,সইততি ত্রিপুরা ও গোদাই চন্দ্র ত্রিপুরা প্রায় ২০ থেকে ২২বছর ধরে তাদের বৈধ মালিকানাধীন ও ভোগদখলীয়নজমিতে বসবাস ও চাষাবাদ করে আসছেন। সম্প্রতি এক সেটেলার বাঙালি মো.বজলুর রহমান এই জমির মালিকানা দাবী করে সেখানে দলবল নিয়ে দখল করার চেষ্টা করেন। বক্তাদের দাবী, বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি,জনপ্রতিনিধি ও ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদের উপস্থিতিতে একাধিক সালিশ ও বৈঠক অনুষ্টিত হয়। এসব বৈঠকে ভুক্তভোগীদের মালিকানা সংক্রান্ত কাগজপত্র সঠিক বলে প্রতীয়মান হলেও অভিযুক্ত মো.বজলুর রহমানের পক্ষে দাখিল করা কাগজপত্রে বিভিন্ন অসঙ্গতি ও সীমানাগত অমিল পাওয়া যায়। এরপরও জোরপূর্বক জমিটি দখল করার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়।

সমাবেশে থেকে জানানো হয়, গত ২১জুন বিকেল ৩টায় ত্রিপুরাদের জায়গাতে জোরপূর্বক মো.বজলুর রহমান নেতৃত্বে একদল বহিরাগত ব্যক্তি লাঠিসোটা,দা, ছুরি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এতে শিমন ত্রিপুরাসহ একাধিক ব্যক্তি আহত হন। আহতদেরকে লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। একই দিন সন্ধ্যায় বজলুর রহমানের নেতৃত্বে ৩০-৪০জনের সংঘবদ্ধ দল পুনরায় নাজিরাম ত্রিপুরা পাড়ায় প্রবেশ করে ত্রিপুরাদের বাড়িঘরে হামলা ও অগ্নিসংযোগের চেষ্টা চালায়। এসময় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় গ্রামবাসী বাধা দিলে তাদের উপরও হামলা চালানো হয় বলে দাবী করেন বক্তারা।
সমাবেশে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা পরবর্তীতে ত্রিপুরা পরিবারগুলোর বাড়িঘর ও আত্মীয় স্বজনদের বাড়িঘরে গিয়ে তল্লাশি চালায় এবং ভুক্তভোগীদের খোঁজাখুঁজি করে। ঘটনাস্থল ত্যাগের আগে তারা প্রকাশ্য প্রাণনাশের হুমকি দেয়। বক্তারা বলেন, নাজিরাম ত্রিপুরা পাড়ার বাসিন্দারা বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তাই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, হামলার সুষ্ঠু তদন্ত,ভুমি দখলের চেষ্টা বন্ধ এবং দায়ীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবী জানান তারা। সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি অনুযায়ী ভুমি কমিশন কার্যকর না হওয়ায় বহিরাগতদের মাধ্যমে পাহাড়ীদের ভুমি দখলের ঘটনা বার বার ঘটছে। একই সঙ্গে হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি নিরসনে অবিলম্বে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের দাবী জানান তারা।

ক্লিটন ত্রিপুরার সভাপতিত্বে অনুষ্টিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন নেলসন ত্রিপুরা,গোদাই চন্দ্র ত্রিপুরা, নারী নেত্রী এনুচিং মারমা,ছাত্রনেতা এডিসন চাকমা,থোয়াক্যজাই চাক ও তনয়া ম্রো প্রমূখ।
আরো পড়ুন→নাইক্ষ্যংছড়ি থানা পরিদর্শনে এডিশনাল ডিআইজি মো: নাজমুল হক
উপদেষ্টাঃ কে এস মং
প্রকাশক: মাহাবুব হাসান খাঁন বাবুল
সম্পাদকঃ এস এম নাসিম
বার্তা সম্পাদকঃ খালেদ মাহাবুব খাঁন আরাফাত
যোগাযোগঃ বান্দরবান সদর, বান্দরবান পার্বত্য জেলা।
ইমেইলঃ newspaharkantho@gmail.com
মোবাইলঃ ০১৮২৬১৬১০৯৮,০১৭৪৯৬৪৮৬৮৬
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০১৭-২০২৬