রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) এক শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় পরিবার, স্বজন ও সহপাঠীদের মাঝে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
নিহত শিক্ষার্থীর নাম ইনতিশার হাসনাত (২২)। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর বাবা বেলাল হোসেন একজন শিক্ষক। তাদের বাড়ি চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ এলাকার ডিএইচএসে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বন্ধুদের সঙ্গে রাঙ্গামাটি ভ্রমণে এসে কাপ্তাই হ্রদে নৌবিহারে বের হন ইনতিশার হাসনাত। নৌবিহারের একপর্যায়ে রিজার্ভ বাজার এলাকার বালুচরে নৌকা নোঙর করা হলে কয়েকজন পর্যটক হ্রদের পানিতে নামেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পানিতে নামার আগে বোটচালক পর্যটকদের সাঁতার জানা আছে কি না জানতে চাইলে তারা ইতিবাচক জবাব দেন। তবে কিছুক্ষণ পর হঠাৎ একজন সাহায্যের জন্য চিৎকার শুরু করলে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। এ সময় ইনতিশার হাসনাত গভীর পানিতে তলিয়ে গিয়ে নিখোঁজ হন।
বোটচালক তরুণ চাকমা জানান, চারজন পর্যটককে নিয়ে তিনি কাপ্তাই হ্রদে নৌবিহারে বের হয়েছিলেন। বালুচর এলাকায় নৌকা থামানোর পর তারা পানিতে নামেন। পরে একজন বিপদের সংকেত দিলে তিনি দ্রুত এগিয়ে গিয়ে দুইজনকে উদ্ধার করতে সক্ষম হন। কিন্তু ইনতিশার হাসনাতকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।
খবর পেয়ে রাঙ্গামাটি ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। দীর্ঘ সময় তল্লাশির পর তাকে উদ্ধার করে রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
রাঙ্গামাটি ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক নিউটন দাস বলেন, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। উদ্ধার শেষে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক শিক্ষার্থীকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে, এই মর্মান্তিক ঘটনার পর পর্যটকদের প্রতি সতর্কবার্তা দিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। কর্মকর্তারা কাপ্তাই হ্রদের গভীর পানিতে না নামা এবং সাঁতার না জানা ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছেন।
কাপ্তাই হ্রদের নির্মল সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসে এক সম্ভাবনাময় তরুণ শিক্ষার্থীর অকাল মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন, বন্ধু ও সহপাঠীদের মধ্যে শোকের মাতম বিরাজ করছে। হাসি-আনন্দের ভ্রমণ মুহূর্তেই পরিণত হয়েছে এক হৃদয়বিদারক ট্র্যাজেডিতে।
আরো পড়ুন→নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে রোহিঙ্গা যুবক নিহত
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন