তুফান চাকমা, নানিয়ারচর>>
ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগকে পরাজিত করার মতো শক্তি পৃথিবীতে কোথাও নেই, ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগকে কোন অপশক্তি পরাজিত করতে পারবেনা বলে মন্তব্য করেছেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অংসুইপ্রু চৌধুরী।
মঙ্গলবার (২৯ আগস্ট) সকালে নানিয়ারচর উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সকল অঙ্গ সহযোগী সংগঠন কর্তৃক আয়োজিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ১৫ই আগস্টের নিহত সকল শহীদের স্মরণে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি এসব কথা বলেন।
আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ আছেই বলে সরকার টানা তিনবার ক্ষমতায় রয়েছে। এই সরকারের আমলে শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চলেও ব্যাপক উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে। ভবিষ্যতে এই উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখতে আওয়ামী লীগ সরকারকে পুনরায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আনার জন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, ১৫ই আগস্ট শুধু বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়নি। হত্যা করা হয়েছে এদেশের গণতন্ত্রকে-মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে-আইনের শাসনকে-বাংলাদেশ আপামর জণগণকে। হত্যাকারীরা ভেবেছিল বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে এদেশ থেকে বঙ্গবন্ধুর নাম চিরতরে মুছে যাবে। কিন্তু তাঁরা পারেনাই। সৌভাগ্যক্রমে আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা বেঁচে থাকার কারণে উনার দক্ষ নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ থেকে ওই খুনিদের বিচার করা সক্ষম হয়েছে।এটা আমাদের বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় পাওয়া। খুনিরা কখনো ভাবতে পারে নাই বাংলাদেশের মাঠিতে তাঁদের বিচার হবে।
নানিয়ারচর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আব্দুল ওহাব হাওলাদার এর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ইলিপন চাকমার সসঞ্চালনায় প্রধান বক্তা হিসেবে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ সদস্য হাজি মোঃ মুছা মাতব্বর। এছাড়াও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হাবিবুর রহমান, সহ-সভাপতি ত্রিদিব কান্তি দাশ, যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মমতাজুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক মিন্টু মারমা, জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্ঠা পরিষদের সদস্য অরুন চৌধুরী, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক প্রিয়তোষ দত্ত, ৩নং বুড়িঘাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ ডাবলু রহমান বক্তব্য রাখেন।
প্রধান বক্তা হাজি মোঃ মুছা মাতব্বর বক্তব্যে বলেন, দলের মধ্যে মৌমাচির মতো বিভিন্ন জায়গা থেকে অনেক লোক যোগদান করেছে। তারা সুযোগ পেলেই আমাদেরকে ছোবল মারবে। তাই সকলকে সতর্ক থাকতে হবে। এই লোক গুলো কারা, তাদের লক্ষ্য উদ্দেশ্য কি, তারা কেন আওয়ামী লীগে যোগদান করেছে তা চিহ্নিত করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, আগামী ৪ মাস পরেই দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই পার্বত্য এলাকায় যে সমস্ত অবৈধ অস্ত্রধারী রয়েছে তাঁরা কিন্তু বসে থাকবে না। তাঁরাও নির্বাচন করবে। মাথায় রাখতে হবে এখানে বিএনপি-জামাত আমাদের জন্য ফেক্টর নই। জেএসএস এর প্রার্থী বা অন্য কোন দলের প্রার্থী থাকতে পারে তাদের উদ্দেশ্য আমাদের সজাগ থাকতে হবে। তাই নানিয়ারচর উপজেলা আওয়ামী লীগকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। রাঙামাটির আসনে নৌকার প্রার্থী হবেন দীপংকর তালুকদার। নির্বাচনে আমাদেরকে জিততে হবে। এইটাই আমাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হতে হবে। আমাদের প্রত্যেকের উচিৎ হবে ভালোবাসা দিয়ে মানুষের মন জয় করে ভোট আদায় করতে। আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়নের কথা মানুষের কাছে তুলে ধরতে হবে। এই উপজেলায় বিদ্যুৎ, রাস্তা, ব্রিজ, স্কুল-কলেজ নির্মাণ সহ জাতীয়করণ করা হয়েছে। এ সরকারের আমলে গর্ভকালীন ভাতা, মাতৃকালীন ভাতা, বয়স্ক ভাতা সহ নানা সেবা প্রদান করা হচ্ছে এসব জনগণের মাঝে তুলে ধরার আহ্বান জানান।
বর্তমান সরকার যে স্মার্ট বাংলাদেশ ঘোষণা দিয়েছেন সেই স্মার্ট বাংলাদেশ আমাদেরকে রুপান্তরিত করতে হলে রাঙামাটির আসনে দীপংকর তালুকদার এমপি কে আবারো পুনরায় নির্বাচিত করে জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার আশা ব্যক্ত করেন।
এর আগে দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা ও কালো পতাকা উত্তোলন, বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে পুষ্পস্তবক অর্পণ, পরবর্তীতে শোক র্যালী করা হয়।