বুধবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০২:৪৮ পূর্বাহ্ন
প্রধান সংবাদ :
রুমায় কেএনএফ আতঙ্কে গ্রাম ছেড়ে পালিয়েছে ৪০টি পরিবার বিএসএমএমইউতে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে ১৪টি বিভাগের বিশেষজ্ঞদের রোগী দেখা শুরু আলীকদম সীমান্ত দিয়ে পাচার হচ্ছে ইয়াবাসহ শত শত অবৈধ গরু- মহিষ পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের আন্দোলন ও গণমিছিল  আজিজ নগর- গজালিয়া ১৮কিলোমিটার সড়কের দুর্ভোগ;  তিন যুগেও হয়নি সড়কের কাজ বঙ্গবন্ধুর দেশে একটি মানুষও গৃহহীন থাকবেনা- শেখ হাসিনা বৈশ্বিক সংকটের প্রেক্ষিতে খাদ্যশস্য উৎপাদন বাড়াতে পদক্ষেপ নুহা-নাবার চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী: বিএসএমএমইউ উপাচার্য ৫ম দফায় আবারো বাড়লো তিন উপজেলায় পর্যটকদের ভ্রমণের নিষেধাজ্ঞা লামায় উচ্ছেদ আতংকে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার

ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর পরিবার পাচ্ছে বাশের আদলের তৈরী “মাচাংঘর”

পাহাড় কণ্ঠ প্রতিবেদক
  • প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, ২৪ জানুয়ারী, ২০২৩
  • ৪১ জন নিউজটি পড়েছেন

আকাশ মারমা মংসিং>>

বান্দরবানের প্রত্যন্ত অঞ্চলে দুর্গম এলাকা বসবাসরত ভূমিহীন ২৩০টি পাহাড়ি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর পরিবার পাচ্ছে বাশের আদলে তৈরী ঐতিহ্যবাহী “মাচাংঘর”। পাহাড়ের ঐতিহ্য ও কৃষ্টির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে তৈরি করা হয়েছে এসব মাচাংঘর। পরিবেশবান্ধব বাঁশ কাঠ টিন ও ছন দিয়ে বিশেষ পদ্ধতিতে নির্মিত এসব ঘর। যা ঘর তৈরী নির্মাণের প্রাক্কলন ব্যয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৫৫ হাজার ৬৭০ টাকা।

পাহাড়ের বসবাসরত জনগোষ্ঠীররা জানান, আদিকাল থেকেই বংশ পরম্পরায় বাঁশ কাঠের মাচাংঘরেই বসবাস করে আসছে এসব জুমিয়ারা। মাচাং ঘরে থাকতে একদিকে যেমন সুবিধা তেমনি মাচাং ঘরের নিচে বিভিন্ন গৃহপালিত পশু পালন এবং বিভিন্ন যন্ত্রপাতি রাখার সুবিধা রয়েছে। এছাড়াও মাচাংঘর ভূমি থেকে উঁচুতে হওয়ায় বিভিন্ন পোকামাকড় ও জীব জন্তুর আক্রমণ থেকেও রক্ষা পাওয়া যায়। বিশেষ করে এটি পাহাড়ের সংস্কৃতি হিসেবে এটি তাদের ঐতিহ্য ঘর। যা পাহাড়িদের কাছে অত্যান্ত জনপ্রিয়। তাই নিরাপদে ও স্বাচ্ছন্দ্যে বসবাসের পাহাড়িদের জন্য সেমিপাকা ঘরের পরবর্তীতে মাচাংঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে সাধুবাদ জানিয়েছেন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির।

জানা গেছে, ভূমিহীন পরিবারের জন্য গৃহনির্মাণ প্রকল্পের চতুর্থ পর্যায়ের আওতায় বর্তমানে বান্দরবান সদর উপজেলায় ৯টি, আলীকদম উপজেলায় ১টি, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় ১৫ টি, রোয়াংছড়ি উপজেলার ৪৫টি, লামা উপজেলায় ১৫টি, রুমা উপজেলায় ১০০টি এবং থানছি উপজেলায় ৪৫টি মাচাংঘর নির্মিত হচ্ছে। এর আগে গৃহনির্মাণ প্রকল্পের সেমিপাকা করলেও সেটি নিয়ে নানান অভিযোগও শেষ ছিলনা। একে পর টাকা পরিবার থেকে টাকা নেওয়া, নিম্ন সামগ্রী দিয়ে ঘর তৈরী সহ ইত্যাদি। তাই পাহাড়ের প্রকৃতি সাথে মানিয়ে নিতে মাচাং ঘর তৈরী প্রকল্পের আওতায় নিয়ে আসে সরকার।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক ইয়াছমিন পারভীন তিবরীজি জানান, জনগণের চাহিদার ভিত্তিতে এবং এলাকার জনপ্রতিনিধিদের মতামত নিয়ে এসব মাচাংঘর নির্মাণের প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর দফতরে পাঠানো হয়। এ প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে একটি প্রতিনিধিদল বান্দরবান পরিদর্শন শেষে মাচাংঘর নির্মাণের যৌক্তিকতা বিবেচনায় এনে বিষয়টি অনুমোদন করে। তার ধারাবাহিকতায় বান্দরবানের পাহাড়ী পল্লীতে এ মাচাংঘর তৈরি করা হয়।

তিনি আরও বলেন, মাচাং আকৃতি ঘরগুলো পরিবেশবান্ধব। স্থানীয় প্রযুক্তি আর মালামাল ব্যবহার করে এটি বাঁশ ও কাঠ দিয়ে তৈরি। এখানকার মানুষের জন্য ঘরগুলো নির্মাণ করা অত্যন্ত সহজ বলেও মত দেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জামছড়ি ইউনিয়নের তিনটি ঘর সম্পন্ন হয়ে ঘরের উঠানে ভূমিহীন পরিবার শুরু করেছে জীবনযাপন। মাটি থেকে ২ ফুট উপরে মাচাং ঘরের উচ্চতা। এছাড়াও থানচি দুর্গম এলাকার রেমাক্রী ইউনিয়নের ২২টি মাচাং ঘরের চলছে পুরোদমের কাজ। কাজের মান প্রায় ৯০ শতাংশ শেষে পর্যায়ের। ঘরের চতুর্পাশে শুরু করেছে রঙ লাগানোর কাজ। কয়েকদিন পর ঘরের কাজ সম্পন্ন শেষে নতুন মাচাং ঘরে উঠতে প্রস্তুতি নিচ্ছে ভূমিহীন পরিবার গুলো।

বান্দরবান রোয়াংছড়ি সড়কে হাংসামা পাড়া য়ইনুপ্রু মারমা, অংসাচিং মারমা, পাই নু মারমা সহ উপকারভোগীরা বলেন, আমরা কোন রকম ভাঙ্গা ঘরে দিনাতিপাত করতে হয়েছিল। এবার প্রধানমন্ত্রী উপহার ঘর পেয়ে অত্যন্ত খুশি।

দুর্গম থানচি রেমাক্রী এলাকা হতদরিদ্র জুম চাষীনী ম্রাখয় সা মারমা বলেন, যারা দুর্গম পাহাড়ে জুমের চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন, তারা অত্যন্ত নিম্ন আয়ের মানুষ। কোন রকম বেঁচে থাকার জন্য লড়াই করতে হয় প্রতিনিয়ত। প্রধানমন্ত্রী দুর্গম পাহাড়ে বসবাসরত জনগোষ্ঠীদের দুই মুঠো খেয়ে মাথা গোঁজার জন্য স্থান করে দিয়েছেন।

বান্দরবান সদর উপজেলার জামছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ক্যসিংশৈ জানান,জামছড়ি ইউনিয়ন পরিষদে সর্বপ্রথম মডেল হিসেবে নির্মিত হচ্ছে মাচাংঘর। যেটি প্রত্যন্ত এলাকার পাহাড়ি জনগণ সেমিপাকা ঘরের চেয়ে মাচাংঘরকে বেশি পছন্দ করেন। এতে মাচাংয়ের নিচে গৃহপালিত পশু পালনসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রী সারা বছর সংরক্ষণ করা যায়। তবে একটি টেকসই মাচাংঘর নির্মাণের জন্য কমপক্ষে চার লাখ টাকা বরাদ্দ করা প্রয়োজন।

থানচি রেমাক্রী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুইশৈথুই মারমা বলেন, একমাত্র নৌ পথ দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। এরকম দুর্গম এলাকাগুলোতে সেমিপাকা ঘর নির্মাণে মালামাল (ইট, সিমেন্ট, রট) পৌছানো জন্য অতিরিক্তি খরচ বহন করতে হবে। সেই দিক দিয়ে বর্তমানে যে মাচাং ঘর দিচ্ছে পাহাড়ের জন্য অত্যন্ত যুগোপযোগী।

জেলা প্রশাসন দেওয়া তথ্য মতে, বান্দরবানে ১ম থেকে ৩য় ধাপে ৪১৩৩টি ভূমিহীন পরিবারের জন্য আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় গৃহনির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৩ হাজার ৫৬০টি গৃহনির্মাণের জন্য ৭০ কোটি ৩৩ লাখ ৭ হাজার ১০০ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। ইতিমধ্যে ২ হাজার ৯৬৮টি সেমিপাকা ঘর ভূমিহীন পরিবারের মাঝে হস্তান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে ২৩০টি মাচাংঘরসহ সর্বমোট ৫৯২টি গৃহ নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলছে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ

আজকের নামাজের সময়সুচী

  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৫:২৪ পূর্বাহ্ণ
  • ১২:১৬ অপরাহ্ণ
  • ১৬:১১ অপরাহ্ণ
  • ১৭:৫১ অপরাহ্ণ
  • ১৯:০৬ অপরাহ্ণ
  • ৬:৩৭ পূর্বাহ্ণ
© All rights reserved ©paharkantho.com-২০১৭-২০২১
themesba-lates1749691102
error: Content is protected !!