বুধবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০২:৩৯ পূর্বাহ্ন
প্রধান সংবাদ :
রুমায় কেএনএফ আতঙ্কে গ্রাম ছেড়ে পালিয়েছে ৪০টি পরিবার বিএসএমএমইউতে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে ১৪টি বিভাগের বিশেষজ্ঞদের রোগী দেখা শুরু আলীকদম সীমান্ত দিয়ে পাচার হচ্ছে ইয়াবাসহ শত শত অবৈধ গরু- মহিষ পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের আন্দোলন ও গণমিছিল  আজিজ নগর- গজালিয়া ১৮কিলোমিটার সড়কের দুর্ভোগ;  তিন যুগেও হয়নি সড়কের কাজ বঙ্গবন্ধুর দেশে একটি মানুষও গৃহহীন থাকবেনা- শেখ হাসিনা বৈশ্বিক সংকটের প্রেক্ষিতে খাদ্যশস্য উৎপাদন বাড়াতে পদক্ষেপ নুহা-নাবার চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী: বিএসএমএমইউ উপাচার্য ৫ম দফায় আবারো বাড়লো তিন উপজেলায় পর্যটকদের ভ্রমণের নিষেধাজ্ঞা লামায় উচ্ছেদ আতংকে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার

লামায় উচ্ছেদ আতংকে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার

পাহাড় কণ্ঠ প্রতিবেদক
  • প্রকাশিতঃ শনিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২২
  • ১৯২ জন নিউজটি পড়েছেন

নিজস্ব সংবাদদাতা>>

মুক্তিযোদ্ধার”সার্জেন্ট আলতাফ উদ্দিন” শহীদ মুক্তিযোদ্ধা,সেনাবাহিনীর একজন সার্জেন্ট ছিলেন।পরিচয় নাম্বার ১৩০৮৪৯১।১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালিন কুমিল্লা ময়নামতি ক্যান্টনমেন্ট এর ৬ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি এর অধিনে ২নং সেক্টর হতে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।যুদ্ধ চলাকালীন সময়েই দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় শহীদ হন।নিজ বাড়ি নোয়াখালীর হাতীয়া উপজেলায় হওয়া সর্তেও মেঘনার করাল গ্রাস কেড়ে নেয় তার পরিবারের মাথা গোজার শেষ আশ্রয় টুকু।

শহিদ সার্জেন্ট আলতাফ উদ্দিনের স্ত্রী নুরেন নাহার বেগম,দুই পুত্র ও দুই কন্যা মোঃ আফছার উদ্দিন, মোঃ আকতার উদ্দিন, নাসিমা আক্তার,পারভীন আক্তার কে নিয়ে বান্দরবান জেলার লামা উপজেলায় আশ্রয় নেন, ভিটামাটি হীন অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন শুরু করে।

ভূক্তভোগী আলতাফ উদ্দিনের স্ত্রী নুরের নাহার বেগম। ছবি- পাহাড় কণ্ঠ 

ভিটামাটিহীন অসহায় শহীদ পরিবারের মাথা গোঁজার আশ্রয়ের জন্য তৎকালীন লামা পৌরসভা মেয়র বরাবরে,১০ই জুন ২০০৯ সালে উপজেলার চম্পাতলী সাবেক গজলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের পরিত্যক্ত ভবনটি সংস্কার পূর্বক,মাসিক ভাড়ার বিনিময়ে বাড়িটি বরাদ্দ পাওয়ার আবেদন জানায় শহীদ পরিবারের দ্বিতীয় সন্তান আকতার উদ্দিন তপন।

আবেদনের প্রেক্ষিতে ১লা নভেম্বর ২০০৯ সালে লামা পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র মোঃ তাজুল ইসলামের সাথে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আলতাফ উদ্দিনের দ্বিতীয় পুত্র মোঃ আকতার উদ্দিন তপন এর একটি তিন বছর মেয়াদি চুক্তি সম্পাদিত হয়।

এ-র ধারাবাহিকতায় ২০১৪ সালের ২০শে এপ্রিল তৎকালীন লামা পৌর মেয়র আমির হোসেনের সাথেও ২য় মেয়াদে ১০ বছরের জন্য আরেকটি চুক্তিপত্র সম্পাদিত হয়,চুক্তি সম্পাদনের সময় ১ম সাক্ষী হিসেবেও নাম পাওয়া যায় লামা পৌরসভার বর্তমান মেয়র মোঃ জহিরুল ইসলামের।

সরজমিনে দালিলিক কাগজপত্র থেকে জানা যায়, এই দীর্ঘস্থায়ী চুক্তির মেয়াদের ১ম হালনাগাদ হওয়ার কথা রয়েছে জানুয়ারি ২০২৪ সালে।

মুক্তিযোদ্ধা বাড়ি

অভিযোগে উঠে এসেছে, শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের এই সদস্যদের পৌরসভার কাছ হতে দীর্ঘ মেয়াদি চুক্তিতে ভাড়া নেয়া বাড়ি হতে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তাদেরকে অন্য কোথাও পুনর্বাসনের ব্যাবস্থা না করেই জোর পূর্বক উচ্ছেদ করার পায়তারা করছেন লামা পৌরসভার বর্তমান মেয়র মোঃ জহিরুল ইসলাম।

এ বিষয়ে শহীদ পরিবারের সন্তান শিক্ষক আকতার উদ্দিন এর স্ত্রী রোকেয়া সুলতানা জানায়, কয়েকদিন আগে স্থানীয় পৌর কাউন্সিলরের করা একটি চুরির মামলায় বীর মুক্তিযোদ্ধা আলতাফ উদ্দিনের ছেলে স্কুল শিক্ষক এখন জেলে আছেন।বাড়িতে কোন পুরুষ সদস্যের অনুপস্থিতিতে পৌরসভা মেয়র ও স্থানীয় কাউন্সিলর সহ এসে তাদেরকে বাসা খালি করে দেয়ার কথা বলে বাড়ির সামনে দেয়ালে টাঙ্গানো শহীদ পরিবার এর একটি পরিচয় ফলক ও তারা তুলে নিয়ে যায় এবং জানায় এখানে উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে মুরং কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে।তাই তাদের এখনি বাড়ি খালি করে দিতে হবে।

ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা রুহুল আমিন বলেন,স্কুল শিক্ষক আকতার উদ্দিন তপন দীর্ঘদিন ধরে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে এই পরিত্যক্ত বাড়িটি মেরামত করে দীর্ঘ দিন বসবাস করে আসছেন। সম্প্রতি একটি মহল তাকে একটি মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে তার পরিবারের সদস্যদের বাড়ি ছেড়ে দেয়ার জন্য বলেছে বলে শুনেছি যা কখনই কাম্য নয়।

এ বিষয়ে লামা পৌরসভার সাবেক মেয়র আমির হোসনে বলেন, এটা সত্যি যে,আমি মেয়র থাকাকালীন সময়ে স্কুল শিক্ষক আকতার উদ্দিন কে বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে পৌরসভার অনুকূলে থাকা পরিত্যাক্ত একটি জরাজীর্ণ বাড়িতে মেরামত করে থাকতে পারবে বলে একটা চুক্তি করেছি। বর্তমান মেয়র মোঃ জহিরুল ইসলাম তখন তাদের পক্ষে আমাকে সুপারিশও করেছিলো।ঘরটি কোন কাজেই আসতো না বিধায় মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে একটা মাথা গোজার ঠাই দেয়াটাকে জরুরি মনে করেছি।তবে মৌখিক ভাবে তাকে বলাও ছিলো যদি পৌরসভার কোন প্রয়োজন হয় তাহলে তাকে তা ফিরিয়ে দিতে হবে।

শহীদ পরিবারের বসবাসরত পৌরসভার পরিত্যক্ত বাড়ির জায়গায় মুরং কমপ্লেক্স নির্মাণ এর বিষয়ে উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বিন ইয়াসির আরাফাত এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোনটি না ধরায় উনার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে লামা পৌরসভার বর্তমান মেয়র মোঃ জহিরুল ইসলাম এর সাথে কথা বলে জানা যায়, ,সাবেক মেয়র আমির হোসনে ২০১২ সালে পৌর পরিষদের সভায় পৌরসভার অনুকূলে থাকা বাড়িটি অবৈধ দখলমুক্ত করার জন্য পৌর পরিষদের নিকট একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়।২০১৩ সালের ৭ই জুলাই শহীদ পরিবারের সন্তান শিক্ষক আকতার উদ্দিন কে বাড়ি খালি করার জন্যে নোটিশও প্রদান করেছিলেন সাবেক মেয়র।পরবর্তীতে আমি ২০১৬ সালে পৌর মেয়রের দায়িত্ব নেয়ার পর তৃতীয় পৌর পরিষদের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় আমরা অবৈধভাবে দখলকৃত জায়গা দখল মুক্ত করে সেখানে পৌরসভার কিছু আয়বর্ধক স্থাপনা নির্মাণের পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।

শহীদ পরিবারের সদস্য শিক্ষক আকতার উদ্দিন এর সাথে হওয়া ১০ বছর মেয়াদি চুক্তিপত্রের বিষয়ে তিনি বলেন, তার এই চুক্তিটি সম্পুর্ণ অবৈধ।এ ধরনের চুক্তি পৌরসভা করেনি। চুক্তি সম্পাদনে সুপারিশ ও করেনি সাবেক মেয়র আমির হোসনের কাছে এমনটাই দাবী করেন বর্তমান মেয়র মোঃ জহিরুল ইসলাম।

এ ধরনের পদক্ষেপে এলাকার সুশীল সমাজ ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা চরম অনিরাপত্তায় তাদের দিন অতিবাহিত করছে। এই বুঝি মাথার উপর থেকে শেষ ঠিকানা টুকুও কেড়ে নেয়া হবে।উচ্ছেদ আতংকে কাটছে তাদের প্রতিটি দিন।সমস্যা সমাধানে পার্বত্য মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করছেন বীর মুক্তিযুদ্ধা শহীদ সার্জেন্ট আলতাফ উদ্দিন এর পরিবার।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ

আজকের নামাজের সময়সুচী

  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৫:২৪ পূর্বাহ্ণ
  • ১২:১৬ অপরাহ্ণ
  • ১৬:১১ অপরাহ্ণ
  • ১৭:৫১ অপরাহ্ণ
  • ১৯:০৬ অপরাহ্ণ
  • ৬:৩৭ পূর্বাহ্ণ
© All rights reserved ©paharkantho.com-২০১৭-২০২১
themesba-lates1749691102
error: Content is protected !!